আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ | বৃহস্পতিবার, ০৫ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 116 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঈদগাঁও গরুর বাজারে ধারাবাহিক অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। মায়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা পশু বিক্রি, মরা গরু জবাই করে বাজারে সরবরাহ, রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি ও রাস্তা দখল করে বাজার স্থাপনের পর এবার অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে।
এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। ঈদগাঁও কেজি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (৩ জুন) ঈদগাঁও গরুর বাজারে প্রতিটি গরুর বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে হাসিল আদায় করা হয়। এর মধ্যে ক্রেতার কাছ থেকে ১,২০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১,৮০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
ঈদগাঁও মেহের ঘোনা এলাকার রিক্সা চালক আবদুস সালাম বলেন, রাস্তা দখল করে বাজার বসানোর ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এর আগে মরা গরু জবাই করে বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও রোগাক্রান্ত পশু বিক্রির অভিযোগও আছে। এদিকে এসব ঘটনায় ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদে নেমেছে ছাত্র সমাজসহ সাধারণ খামারিরা।
ঈদগাঁওর জনৈক আইনজীবি ও ছাত্র প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “৪ জুন (বুধবার) থেকে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকার বেশি হাসিল নেওয়া যাবে না। এর মধ্যে ক্রেতা দিবেন ১,০০০ টাকা ও বিক্রেতা দিবেন ১,৫০০ টাকা। এর ব্যত্যয় হলে ছাত্র-জনতা বাজার বন্ধ করে দেবে।”
প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, গরু বাজারে আনতে পরিবহন খরচ, খাবার খরচ এবং বছরের পর বছর ধরে লালন-পালনের পর বিক্রির সময় অতিরিক্ত হাসিল তাদের লাভ শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসছে।
ঈদগড়ের গরু ব্যবসায়ী শাহাজান বলেন, “দুই বছর ধরে গরুটি পালন করছি। বাজারে স্থানীয় দামের চেয়ে ২ হাজার টাকা কম বলছে, তার ওপর আবার ৩ হাজার টাকা হাসিল। এতে আমার তো সরাসরি ক্ষতি। তাই গরু ফেরত নিয়ে যাচ্ছি।”
পোকখালী ইউনিয়নের খামারি আরিফুল ইসলাম বলেন, “এইভাবে অতিরিক্ত হাসিল আদায় চলতে থাকলে কেউ আর গরু আনতে চাইবে না। এটা কৃষকদের ওপর সরাসরি চাপ।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে ঈদগাঁওর ছাত্র-জনতা বাজার পর্যবেক্ষণ করবে এবং অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এদিকে বাজার ইজারাদারের এসব অনিয়ম দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ঈদগাঁও গরু বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
গতকাল বুধবার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গরু বাজারে কোন ক্রেতা বিক্রেতা নেই।
ফাঁকা বাজারের একপাশে অবৈধ আড়তে শতাধিক গরু মজুদ থাকলেও কোন ক্রেতা দেখা যায়নি।