আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ | শুক্রবার, ০৬ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 119 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংগঠন ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম’ – সিইএইচআরডিএফ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল বায়তুল লতিফ জামে মসজিদের সামনে এ চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সিইএইচআরডিএফ এর প্রধান নির্বাহী মোঃ ইলিয়াছ মিয়া এবং সমন্বয় করেন সংগঠনের উপ-প্রদান রুহুল আমিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ডিককুল বায়তুল লতিফ জামে মসজিদের সভাপতি ও চাইল্ড একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুস সালাম। তিনি এলাকার মানুষের হাতে পছন্দমত গাছের চারা তুলে দেন।
চারা বিতরণকালে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আসুন আমরা গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই। পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা প্রত্যয় করেছি যে, সকল ধরনে প্লাস্টিক বর্জন ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন অসচেতনতামূলক কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকবো। সুন্দর পৃথিবী গড়তে আমাদের সকলের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকা নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সিইএইচআরডিএফ এর গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের দেশে অনেকদিন থেকে আলোচনা হচ্ছে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করার জন্য, আসলে এটা একটি সামাজিক আন্দোলন। আমাদের দেশ থেকে ধীরে ধীরে গাছ কমে যাচ্ছে। একটি দেশের শতকরা ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন কিন্তু সেটা আমাদের দেশে নেই।
সিইএইচআরডিএফ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। এই কার্যক্রম থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সবাইকে নিজ বাড়িসহ আশপাশে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এরকম একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভালো কাজে সম্পৃক্ত রাখার জন্য সিইএইচআরডিএফকে জানাই অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আগামীতে সিইএইচআরডিএফ এর প্রতিটি ভালো কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ইতিহাস: বৃহস্পতিবার (৫ জুন ২০২৫ইং) ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বের প্রতিটি দেশে পালিত হয় দিবসটি। দিবসটির মূল লক্ষ্য পরিবেশ দূষণের কারণ ও দূষণ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে বের করা। এ ছাড়া মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করে তোলাও এ দিবসের অন্যতম একটি লক্ষ্য।
এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়’। পাশাপাশি এবার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে: ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতিটি দেশেই সরকারি নানা কর্মসূচি থাকে। সেই সঙ্গে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও স্লোগান প্রতিযোগিতা, পরিবেশবিষয়ক সেমিনার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের জন্য সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয় প্রতিটি দেশে।
দিবসটির মাধ্যমে মানুষকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। জাতিসংঘ পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে এ দিবস পালনের ঘোষণা করে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, পরিবেশ রক্ষার তাগিদ সর্বপ্রথম ভাবতে শুরু করে সুইডেন। এ কারণে ১৯৬৮ সালের ২০ মে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সুইডেন সরকার।
ওই চিঠিতে তুলে ধরা হয় প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের কথা। সেসব উদ্বেগের সমাধানের উপায় খুঁজতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে এক সম্মেলনের ডাক দেয় জাতিসংঘ।
এরপর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে সম্মেলনটি ইতিহাসের প্রথম পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের স্বীকৃতি পায়।
সুইডেনের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আন্তর্জাতিক এ সংঘটি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালে প্রথম সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ জুনকে জাতিসংঘ ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। সে বছর থেকেই প্রতিবছর দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।