সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কক্সবাজারে বাসের যত্রতত্র পার্কিং, দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ   |   মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   103 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কক্সবাজারে বাসের যত্রতত্র পার্কিং, দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় এখন সারা বছরই লেগে থাকে। কিন্তু এই নগরীতে যাত্রীবাহী বাসের নিয়ন্ত্রণহীন পার্কিং বর্তমানে বড় এক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন স্পট ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় একদিকে তৈরি হচ্ছে যানজট, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের হোটেল-মোটেল জোন, বাস টার্মিনাল এলাকা, কলাতলী সড়ক এবং কবিতা চত্বর সংলগ্ন ঝাউবাগান এলাকায় যত্রতত্র পার্ক করা হচ্ছে বাস। অনেক স্থান যেন রীতিমতো মিনি বাস টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, অন্যদিকে পর্যটন এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

যদিও শহরের শৈবাল মাঠকে নির্ধারিত বাস পার্কিং জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তবে অভিযোগ রয়েছে-একটি অসাধু চক্র নিজস্ব স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছে অবৈধ পার্কিং বাণিজ্য। হোটেল ও কটেজ জোনেও চুক্তিভিত্তিক পার্কিংয়ের নামে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে শহরের কবিতা চত্বর এলাকায় বাস পার্কিং এবং চাঁদাবাজির বিষয়ে। স্থানীয়দের দাবি, মোহাম্মদ ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপাড় ও ঝাউবাগানে অবৈধভাবে বাস রাখার ব্যবস্থা করছেন এবং এর বিনিময়ে নিচ্ছেন চাঁদা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গাড়ি ধোয়া, চালক ও হেলপারদের গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের নামেও অর্থ আদায় করছেন।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রায়হান কবির বলেন, ‘সমুদ্র উপকূলের শহরে ঘুরতে এসেও যানজটে ভোগা লাগছে। এটা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ব্যর্থতা।’

স্থানীয় যুবক হারুন উর রশিদ বলেন, ‘শৈবাল মাঠ নির্ধারিত পার্কিং এলাকা থাকলেও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে বাস রাখা হচ্ছে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।’

পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সমুদ্রপাড়ে ঝাউবাগানের মতো স্থানে বাস পার্কিং কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পর্যটকদের আনন্দময় ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, ‘আমি শুধু গাড়ি ধুয়ে কিছু টাকা নিই। অন্য কিছু আমার সঙ্গে জড়িত নয়।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটন এলাকায় অবৈধ পার্কিংয়ের সুযোগ নেই। নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শৈবাল মাঠই একমাত্র অনুমোদিত পার্কিং এলাকা। শহরে বাস ঢুকতে হলে অনলাইন আবেদন করতে হয়। হোটেল জোন বা কবিতা চত্বরে পার্কিং নিষিদ্ধ। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছি, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com