সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
প্রধান শিক্ষক ২২.সহকারী শিক্ষক ২৬

পেকুয়ায় ৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষক পদ শূন্য, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা-কার্যক্রম

এম. আবদুল্লাহ আনসারী, পেকুয়া   |   রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   125 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পেকুয়ায় ৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষক পদ শূন্য, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা-কার্যক্রম

পেকুয়ায় চরম সংকটে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। উপজেলার এক- তৃতীয়াংশের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নেই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘসময় ধরে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে এসব বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ কারণে বিদ্যালয় পরিচালনায় দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। ভেঙে পড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। ব্যাহত হচ্ছে মানসম্মত পাঠদান। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীর বিপরীতে কমেছে শিক্ষকের সংখ্যা। সবমিলিয়ে সংকুচিত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের যথাযথ মেধার বিকাশ।

পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৬টি। এর মধ্যে ২২টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগীরা বলছেন, মামলা, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা, নিয়োগ পরীক্ষায় দেরি, পদোন্নতিতে ধীরগতিসহ আরও বহুবিধ কারণে এ সংকট ক্রমান্বয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ ও মডেল শিক্ষক হিসাবেও কাজ করেন। তাই এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ২০% সরাসরি নিয়োগ, ৮০% পদোন্নতির বিধান রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষকের ৩৪১ টি পদে কর্মরত রয়েছেন ৩২৪ জন। পদ শূন্য রয়েছে, ১৭ জন। ৯ জন পদোন্নতির তালিকায় রয়েছে তা কর্যকর হলে সহকারী শিক্ষকের পদশূন্য হবে ২৬ টি।একইভাবে, পেকুয়া উপজেলায় ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে প্রধান শিক্ষকের সংকট। উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত থাকায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পেকুয়া উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলার ২২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

পূর্ব উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, একটি আদর্শ এবং নীতি-নৈতিকতা বোধসম্পন্ন জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষা। তবে দীর্ঘসময় প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে সুষ্ঠু স্বাভাবিক পাঠদানে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে শিক্ষার প্রথম ধাপটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে প্রশাসনিক জটিলতাও দেখা দিয়েছে।

রাজাখালী নতুনঘোনা হাজী শের আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জয়নাল বলেন, প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষক হলেও আমাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। খুব কষ্ট করে শ্রেণির কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে। আমাদের ক্ষমতা সীমিত। তাই অনেক জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেক বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের আচরণ-সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রধান শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরাও।

উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে রাজাখালী নতুন ঘোনা হাজী শের আলী সিকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আমি স্বল্প শিক্ষিত মানুষ। আমার প্রত্যাশা, মেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। কিন্তু স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই শিক্ষার্থী অনুপাতে সহকারী শিক্ষকও নেই। এ অবস্থায় আমরা অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।

পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল আক্তার বলেন, পেকুয়া উপজেলায় ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অভাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এ বিদ্যালয় গুলোতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য উর্ধতন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

ডিবিএন/জেইউ। 

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com