সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করবে ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর

মহেশখালী প্রতিনিধি   |   শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   93 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করবে ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের আয়োজনসহ ৬ দফা দাবিতে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন । মুফতি ফয়জুল করিম বলেন- ‘১৯৯১ সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরের ক্ষমতাকালে বিএনপি সীমাহীন দুর্নীতি করেছে এবং গরীব দুঃখীদের ন্যায্য হক নিজেদের পকেটে ঢুকিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা আমাদের আগামির ইঙ্গিত দেয়।

তিনি দাবি তুলে বলেন- ‘নির্বাচনী ব্যবস্থায় ন্যায়সংগত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যমান কাঠামোয় সংস্কার জরুরি।’ তার মতে, এসব দাবি পূরণ না হলে জনগণ প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে এবং নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে । চরমোনাই পীর বলেন, ‘ইসলামী দল যদি বাংলাদেশে ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা পায়, তাহলে দেশে আর কোনো গরীব থাকবে না এবং সামগ্রিকভাবে দেশ দরিদ্রসীমার উপরে উঠে যাবে।’

তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জনগণের জীবনমান দ্রুত উন্নত হবে। সাধারণ মানুষের উচিত একবার হলেও হাতপাখায় ভোট দিয়ে ইসলামী দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেখা, কেননা এতে দেশের সামগ্রিক উন্নতি ত্বরান্বিত হতে পারে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, জোটবদ্ধ দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন, নির্বাচন পূর্ববর্তী গণভোট আলাদাভাবে আয়োজনসহ পাঁচ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এই আট দল। তাদের দাবি- রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করা। এসব দাবির মাধ্যমে তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রূপে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় ।
গণসমাবেশে তিনি জুলাইজুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনের পূর্বে গণভোট আয়োজনসহ ছয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইসলামী আন্দোলনের দাবি- জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠবে। তাদের মতে এই সনদ রাজনৈতিক সংস্কারের অন্যতম ভিত্তি, যা কার্যকর হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে । আট দলীয় এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কার, সংসদের উচ্চকক্ষে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন এবং নির্বাচন পূর্বে গণভোটের মতো কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে।

তাদের মতে এসব দাবি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াবে। তারা বলছে – রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হলে এসব সংস্কার অপরিহার্য এবং দেশের সামগ্রিক শাসন কাঠামো উন্নত হবে । ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলে দলে নেতা কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। মিছিলের মাধ্যমে তারা সমাবেশে অংশ নেন এবং বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে হাজারো নেতা কর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করেন- রাজনৈতিক দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে । সমাবেশে মহেশখালী কুতুবদিয়া থেকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের হয়ে নির্বাচন করা প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক বলেন- ‘উন্নয়নের নামে মহেশখালীর মানুষের জমিজমা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, ‘নানা অজুহাতে মানুষকে পাহাড় মৌজার জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে না, নির্বাচিত হতে পারলে এসব উন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্যায় প্রথমেই কাজ করব । তিনি আরও বলেন- ‘মহেশখালী কুতুবদিয়ার মানুষ শিক্ষা স্বাস্থ্য খাদ্যসহ নানা মৌলিক বিষয়ে এখনও অধিকার বঞ্চিত। তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান যে এলাকার ঝংগুলো পরিস্কার করতে এবং পরিবেশকে মানুষের বসবাসের উপযোগী রাখতে তারা সুযোগ চান, কারণ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল তারা প্রকৃতভাবে ভোগ করতে পারবে ।

ডিবিএন/জেইউ। 

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com