বার্তা পরিবেশক | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 124 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বসতভিটার জায়গা জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করা হয়েছে।
শনিবার (সকাল ১১টা) মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা মৌজার সরকারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রতন সরকার জানান, গোরকঘাটা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৩৪ এবং দাগ নম্বর ৫৪২ ও ৫৪৩-এর মোট ৬২ শতক জায়গার মালিকানা ও ভাগ-বণ্টন নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিপক্ষ প্রাণ কৃষ্ণ সরকার গং ২০১৬ সালে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আপিল পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া, ওই জমির যথাযথ ভাগ-বণ্টনের দাবিতে স্বপন সরকার গং ২০২১ সালে অপর একটি মামলা (নং-৯৩৭) দায়ের করেন, যা বর্তমানে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। ওই মামলায় আদালত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।
অভিযোগে রতন সরকার আরও বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওয়ারিশদের একপক্ষ পুইক্ক্যা সরকার গং বিবাদীরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জমিটি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী হেফাজত উল্লাহ—যিনি পুইক্ক্যা সরকারের ধর্মান্তরিত মেয়ের জামাতা—বাদীপক্ষের স্বপন সরকারের বড় ছেলে রনি সরকারকে হুমকি দেন। এ সময় তিনি শনিবার সকালে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করা হবে জানিয়ে বাসায় উপস্থিত থাকতে বলেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মচারী মধু সরকারের ভগ্নিপতি হেফাজত উল্লাহর ইন্ধন ও সহযোগিতায় মৃদুল সরকার, বিপ্লব সরকার, প্রণব সরকার ও উজ্জ্বল সরকার এ অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার সকালে হেফাজত উল্লাহর যোগসাজশে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সার্ভেয়ার দিয়ে বিরোধীয় জমি পরিমাপের চেষ্টা চালানো হয়। তবে স্থানীয়রা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে পরিমাপকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও অফিসের কর্মচারী হেফাজত উল্লাহ মোবাইল ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। রনি সরকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি সত্য নয় বলে দাবি করেন।