সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নিউ ইয়ার ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটক স্রোত: হোটেল–মোটেল প্রায় বুকিং

এম ফেরদৌস :   |   সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   65 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউ ইয়ার ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটক স্রোত: হোটেল–মোটেল প্রায় বুকিং

শীতের আমেজ ও বছরের শেষের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকের ঢল। যদিও শহরের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র এক দেড়লাখ পর্যটক, তবে চলতি বছরের শেষ দিকে চার থেকে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বছর শেষ হতে এখনও ৮–৯ দিন বাকি থাকলেও এর মধ্যেই কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে রুম বুকিং প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২৫ ডিসেম্বরের পর বড়দিন ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে এবং ৩১ ডিসেম্বর বছরের শেষ দিন উদযাপন করতে আরও বিপুলসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন।

ছুটির দিন না হলেও রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সৈকতের বালুকাবেলায় অবকাশ যাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আগত পর্যটকেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ, ইনানীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় পর্যটন স্পটে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শহর। মেরিন ড্রাইভ সড়কজুড়ে পর্যটকবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারিও চোখে পড়েছে।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ আসা পর্যটক মোনালিসা জানান, তারা প্রতিবছরই ডিসেম্বরে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। তবে এবার কিছুটা আগেভাগেই আসা হয়েছে এবং ২–৩ দিন অবস্থান করে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কক্সবাজারের সৌন্দর্য সব সময়ই উপভোগ্য। শীতের সময় এই শহর আরও নান্দনিক হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক শহিদুজ্জামান বলেন, আগাম সময়ে এসেও হোটেল বুকিং পেতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন সত্যিই কল্পনার বাইরে।

তবে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা পর্যটক সাজ্জাদ হোসেন বলেন,আমরা আট বন্ধু এসেছি। একটি হোটেলে প্রতি রুম চার হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে, প্রশাসনের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশেই বর্তমানে রুম খালি নেই। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেক হোটেলেই অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, চলতি বছরের শেষ দশ দিনে কক্সবাজারে প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান,
শহরের আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বড়দিনের ছুটি ও পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পর্যটকের চাপ আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে প্রায় সব হোটেলেই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন,অতিরিক্ত ভাড়া যেন নেওয়া না হয় সে বিষয়ে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে, আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধে বাড়তি তৎপরতা চালাচ্ছে টুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন,পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকেই আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। কোনোভাবেই পর্যটকদের হয়রানি করা যাবে না। অভিযোগ পেলেই গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, পর্যটকদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত টুরিস্ট পুলিশ হেল্পলাইন ০১৩২০১৬০০০০ নম্বরে যোগাযোগ করলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যাবে।

পর্যটকের ভিড়ে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পর্যটন পরিবহন, স্যুভেনির দোকান ও সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com