বার্তা পরিবেশক : | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 18 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান ছিদ্দিকী চেয়ারম্যানের পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছেন। গত ২২ জুন তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে পুনর্বহালের আবেদন এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন
বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ খবর প্রকাশের পর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর আত্নগোপনে চলে যান চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকী। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হলে প্রথমে প্রশাসক ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। শাহজাহান ছিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর তিনি চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পাওয়ার উদ্যোগ নেন। উল্লেখ্য ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং পরিষদের কার্যক্রমে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছিলেন। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। অনাস্থা প্রস্তাবের তদন্ত সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে এখন চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের আবেদনকে কেন্দ্র করে পুরোনো অভিযোগগুলো আবারও সামনে চলে এসেছে।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শাহজাহান ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালনকালে একাধিক ভুয়া জন্ম সনদ, ভুয়া মৃত্যু সনদ প্রদান করেন এবং সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বিতরণে অনিয়ম করেন। যাহা স্থানীয় গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিল ভুক্তভোগীরা। যার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনের সময় তার কর্মকাণ্ড এতই বেপরোয়া ছিল যে তার অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল সাধারণ জনগন। ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট গন আন্দোলনে সরকার পতনের পর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে
হামলা ও ভাংচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুরুশকুলের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যার বিরুদ্ধে একসময় অধিকাংশ ইউপি সদস্য অনাস্থা দিয়েছিলেন এবং যার বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন মামলা বিচারাধীন, যার নাগরিক সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট সাধারণ জনগন, যার বিরুদ্ধে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু সনদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ জনগন ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাংচুর করেছে তার চেয়ারম্যান পদে ফিরে আসার উদ্যোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রশাসনের উচিত সব আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। খুরুশকুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুলাই রাজবন্দী এল্যায়েন্স কক্সবাজার জেলার সিনি: সহ-সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দিনের নাগরিক সেবা ও এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেখে সন্তুষ্ট সাধারণ জনগন। এ প্রেক্ষাপটে শাহজাহান ছিদ্দিকীকে পূনর্বহাল করা হলে নাগরিক সেবা ভেঙ্গে পড়বে ও এলাকার উন্নয়ন থমকে পড়বে। এছাড়াও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলাকারী অর্ধ ডজন মামলার আসামী চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকীকে পুনর্বহাল করা হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ার আশংঙ্কা রয়েছ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।