মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম-আদালত প্রতিবেদকঃ | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 45 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় সমিতির প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়ক থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় রঙিন ব্যানার, মুখরিত স্লোগান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহনকারী বৈশাখী সাজে সজ্জিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত গান, নাচ আর রঙিন সাজসজ্জায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের আনন্দ। উৎসবমুখর পরিবেশে শোভাযাত্রাটি আদালত চত্বর প্রদক্ষিণ করে সমিতির মিলনায়তনে এসে মিলিত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। সংগীত, কবিতা ও নৃত্যের পরিবেশনায় সকালের নির্মল পরিবেশে নতুন বছরের আহ্বান জানানো হয়।
শোভাযাত্রা শেষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান। তিনি তাঁর বক্তব্যে নববর্ষকে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সকলের জীবনে নতুন বছর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী এবং সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক শক্তিশালী প্রতীক। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন পেশাজীবীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন আপ্যায়ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ রিদুয়ান আলী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাহিদা খানম কক্সী।
দিনব্যাপী উৎসবে ছিল পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, বৈশাখী গান, আবৃত্তি, লোকসংগীত, পিঠাপুলির সুগন্ধময় পরিবেশনা এবং স্মৃতিময় ফটোসেশন। নবীন-প্রবীণ আইনজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে আনন্দ, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি একসূত্রে গাঁথা হয়ে ওঠে। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।
সব মিলিয়ে এ আয়োজন শুধু একটি নববর্ষ উদযাপনই নয়, বরং বাঙালির চেতনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে অংশগ্রহণকারীরা। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।