রবিবার ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মার্কিন বোমা হামলা ও সমঝোতা ব্যর্থ, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

  |   শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   17 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মার্কিন বোমা হামলা ও সমঝোতা ব্যর্থ, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

সম্প্রতি ভার্সাইয়ে এক ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিতে সই করার কয়েক দিন আগে তিনি ও তার সহযোগীরা নিজেদের কৌশলের কথা জানিয়েছিলেন। তাদের কৌশলটি ছিল, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য সচল করা। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর থেকে এমনভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, যাতে ইরান শত শত কোটি ডলারের তেল বিক্রি করতে পারে।
পেয়ে দ্রুত এই দিকে মনযোগী হয়ে উঠবে। গত ১৭ জুন সমঝোতা স্মারকে সই করার তিন দিন আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিককে ফোনে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি ইরানের জন্য সত্যিই এক দারুণ চুক্তি’।

ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তারা আসলে এই চুক্তি নিয়ে গর্বিত। আমার মনে হয়, ক্রমাগত মার খেতে খেতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।’ তবে বাস্তবে তা মনে হচ্ছে না।

দুই পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি বড়, জটিল ও স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে সম্মত হলেও এখন পর্যন্ত সেই চুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনার সময়সূচি ঠিক করা হয়নি। এদিকে চুক্তির এক মাস পার না হতেই ওই প্রণালি দিয়ে যাওয়া তিনটি জাহাজে হামলা হয়। হামলার স্থানটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এর জেরে ট্রাম্প তেল বিক্রির জন্য ইরানকে দেয়া বিশেষ ছাড় বাতিল করে দেন। এরপর টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১৭০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে।

বোমা হামলা ও প্রাথমিক চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের হাতে যদি এখন কোনো ‘প্ল্যান সি’ থাকেও, তারা সে বিষয়ে কিছুই তুলে ধরেননি; বরং মনে হচ্ছে, তারা আগের মতো আবারও তেল নিষেধাজ্ঞা ও বোমা হামলার পথেই হাঁটছেন। ট্রাম্প এসব পদক্ষেপকে ‘বিধ্বংসী’ বলে বর্ণনা করলেও এর ফলে এখন পর্যন্ত কেবল জটিলতাই তৈরি হচ্ছে।

তবে বিষয়টিকে খুব সহজ বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘তারা যদি জাহাজে গুলি চালায়, তবে আমরা তাদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব।’ জেডি ভ্যান্স প্রথমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু পরে তাকে এই যুদ্ধের পক্ষে কথা বলার এবং আলোচনা করে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ইরাক যুদ্ধের শুরুর দিকে জর্জ ডব্লিউ বুশসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রশাসনে পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে কাজ করেছেন প্রবীণ কূটনীতিক রিচার্ড এন হাস। তিনি বলেন, ‘আমরা কৌশলগতভাবে এমন এক জায়গায় এসে আটকে গেছি, যেখান থেকে সামনে এগোনোর পথ নেই। এখানে সংকট হলো, আমরা যত বেশি হামলা চালাব, ইরানও উপসাগরীয় এলাকার তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে তত বেশি পাল্টা হামলা চালাবে। আর (মার্কিন) প্রশাসন এখনো বের করতে পারেনি, কীভাবে ওই সব স্থাপনা রক্ষা করা যায়।’

রিচার্ড হাস আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রথমে ভেবেছিলেন, বোমা হামলা চালিয়ে ইরানের সরকার পতন ঘটাবেন। এরপর তিনি ভাবলেন, বোমা মেরে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবেন—কোনোটিই কাজে আসেনি।’ তেল বিক্রির মাধ্যমে ইরানকে লাভবান হওয়ার যে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, সেটিও কোনো কাজে আসেনি।

গত বৃহস্পতিবার সম্মেলন থেকে ফিরে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব সামান্যই কথা বলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আশা করছেন, ‘কারিগরি স্তরের আলোচনা’ চালিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এই কথার মধ্যেও স্ববিরোধিতা রয়েছে। কারণ, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে, তা কোনো ‘কারিগরি’ সমস্যা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক।

এর একটি উদাহরণ হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। গত জুনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান তার মজুত পারমাণবিক জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে কি না, সে বিষয়টিও। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সই করা একটি চুক্তির অধীনে ইরান তাদের তখনকার মজুত পারমাণবিক জ্বালানির ৯৭ শতাংশ হস্তান্তর করেছিল। তবে ট্রাম্প পরে ওই চুক্তি থেকে সরে আসেন।

তবে প্রথম রাজনৈতিক লড়াইটি শুরু হতে পারে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন নিয়ে। ভার্সাইয়ে ট্রাম্প যে সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন, সেখানে একটি অস্পষ্ট অনুচ্ছেদের কারণে প্রশাসনকে এখন মূল্য চোকাতে হচ্ছে।

চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—‘এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং বিপরীত দিক থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এই চলাচলের জন্য কেবল ৬০ দিন কোনো মাশুল নেয়া হবে না।’

ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা ভেবেছিলেন, এই শর্তের মাধ্যমেই জাহাজ চলাচলের জট খুলবে এবং এর সব দায়িত্ব ইরানের ওপরই বর্তাবে। অন্যদিকে ইরান এটিকে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের প্রধান পথটি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল। তারা জোর দিতে থাকে, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলের কাছের চ্যানেল দিয়েই যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করছে।

মার্কিন নৌবাহিনী যখন ওমানের কাছাকাছি একটি ভিন্ন চ্যানেল দিয়ে প্রকাশ্যে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করে, তখন ইরান কিছু জাহাজে গুলি চালিয়ে তার জবাব দেয়। শিপিং–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান লয়েডস অব লন্ডনের মতে, এখন ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল খুবই কম বললেই চলে। এই বিষয়টিই ট্রাম্পকে হতাশ করেছে এবং এর জেরেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে।

তবে ট্রাম্পের সহযোগীদের দাবি, তারা চুক্তির কোনো লঙ্ঘন করেননি। তাদের মতে, এই সমঝোতা স্মারকটি কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং ইরান সেই পরীক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনা ট্রাম্পকে আবার এপ্রিলে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। তখন তিনি মনে করেছিলেন, সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com