দেশবিদেশ ডেস্ক: | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 18 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মায়ো ক্লিনিকের প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা জানান সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব। তাই কোন উপসর্গগুলো সতর্কবার্তা হতে পারে, তা জানা জরুরি।
ব্রেন টিউমার কী
ব্রেন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতর বা আশপাশে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি মস্তিষ্কের টিস্যু, স্নায়ু, পিটুইটারি গ্রন্থি, পাইনিয়াল গ্রন্থি কিংবা মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা ঝিল্লিতে হতে পারে। ব্রেন টিউমার প্রধানত দুই ধরনের
সেকেন্ডারি বা মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন টিউমার: শরীরের অন্য অংশের ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে এটি হয়।
অন্যান্য ক্যানসারের মতো ব্রেন টিউমারকে স্টেজে ভাগ করা হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্রেন টিউমারকে গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৪ পর্যন্ত শ্রেণিবিন্যাস করে।
ব্রেন টিউমারের লক্ষণ নির্ভর করে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং কত দ্রুত এটি বাড়ছে তার ওপর। কিছু টিউমার ধীরে ধীরে বড় হয়, তাই শুরুতে তেমন কোনো সমস্যা বোঝা যায় না। আবার কিছু টিউমার দ্রুত বাড়তে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ব্রেন টিউমারের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা বা মাথায় চাপ অনুভব করা।
আগের তুলনায় বারবার বা বেশি তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
মাথাব্যথা, যা অনেক সময় টেনশন হেডেক বা মাইগ্রেনের মতো মনে হতে পারে।
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
ঝাপসা দেখা, ডাবল দেখা বা পাশের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
হাত বা পায়ে অবশভাব কিংবা দুর্বলতা অনুভব করা।
শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।
কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা।
দৈনন্দিন কাজ বা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দেখা।
ঝাপসা দেখা, ডাবল দেখা বা পাশের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। ছবি: সংগৃহীত
ঝাপসা দেখা, ডাবল দেখা বা পাশের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। ছবি: সংগৃহীত
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া।
সহজ নির্দেশনাও অনুসরণ করতে অসুবিধা।
ব্যক্তিত্ব বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
আগে কখনও খিঁচুনি না থাকলেও হঠাৎ খিঁচুনি।
শ্রবণশক্তির সমস্যা দেখা দেওয়া।
মাথা ঘোরা বা চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হওয়া (ভার্টিগো)।
অস্বাভাবিক ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি।
চিকিৎসা: চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের ধরন, অবস্থান, আকার এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি , টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
মাথাব্যথা মানেই ব্রেন টিউমার নয়। মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক, সাইনাসের সমস্যা বা আরও অনেক কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তবে যদি মাথাব্যথার সঙ্গে খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা আচরণগত পরিবর্তনের মতো লক্ষণ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।