শফিকুর রহমান | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 19 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছবিতে চট্রগ্রামের টপ সন্ত্রাসী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকা ছয় শীর্ষ সন্ত্রাসী- বড় সাজ্জাদ, ছোট সাজ্জাদ, রায়হান আলম, মোবারক হোসেন ইমন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা ও ইসমাইল হোসেন টেম্পু- কে ঘিরেই বর্তমানে চট্টগ্রামের অপরাধচক্রের মূল কাঠামো গড়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
গত ১৩ মাসে অন্তত ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ চালিতাতলীতে গুলিতে নিহত হন চিহ্নিত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। একই ঘটনায় আহত হন অটোরিকশাচালক ইদ্রিস আলী। অন্যদিকে রাউজানে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে আহত হন আরও পাঁচজন। এসব ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিদেশে থেকেও চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণে বড় সাজ্জাদ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন কুখ্যাত বড় সাজ্জাদ। তবে বিদেশে থেকেও তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও তাঁর নির্দেশ ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
কারাগারে ছোট সাজ্জাদ, তবু থামেনি বাহিনী
বর্তমানে কারাগারে থাকলেও ছোট সাজ্জাদের বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়নি। পুলিশ বলছে, তাঁর অনুসারীরা এখনো নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডে তাঁর নাম উঠে এসেছে।
রায়হান-ইমন: মাঠপর্যায়ের অপারেশন পরিচালনায়
ছোট সাজ্জাদের গ্রেপ্তারের পর মাঠপর্যায়ে অপরাধচক্রের নেতৃত্বে উঠে আসে রায়হান আলম। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোবারক হোসেন ইমনকে একজন কুখ্যাত শ্যুটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বুইস্যা ও টেম্পুর বাহিনীর দাপট
চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় শহিদুল ইসলাম বুইস্যা ও ইসমাইল হোসেন টেম্পুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। টেম্পু কারাগারে থাকলেও তাঁর নেটওয়ার্ক সক্রিয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়কে নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছে সন্ত্রাসীরা
পুলিশের দাবি, অপরাধ সংঘটনের পর সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে। ফলে অভিযান চালিয়েও অনেক সময় তাদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সর্বশেষ: যশোর সীমান্তে ধরা পড়ল ডেভিড ইমন
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে ডেভিড ইমন ও তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে ২০ রুপির চুক্তিতে ভারতে যাচ্ছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।