| বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 11 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের কাঁধে।
‘আমার মতে আমাদের তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক রাখার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এটা দুইজন হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে সম্ভব হলে একজনও হতে পারে। সাদা বলের অধিনায়ক এবং সহ অধিনায়ক এবং লাল বলের অধিনায়ক ও সহ অধিনায়কের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। আমাদের বার্তা পরিস্কার, সাদা বলের জন্য একজন অধিনায়ক ও একজন সহ অধিনায়ক থাকবে। আর লাল বলে একজন অধিনায়ক ও একজন সহ অধিনায়ক থাকবে। যেটা আগেও ছিল, এখনও সেটাই আছে।’
মিরাজকে নিয়ে তামিমের মূল্যায়ন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমরা তাকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে আরও বেশি মূল্যায়ন করি। আমরা সম্ভবত তার কাছ থেকে যে পর্যায়ের পারফরম্যান্স আশা করছিলাম,আর এর সঙ্গে বাইরে থেকে আসা নানা ধরনের কথাবার্তা-এসবই তাকে প্রভাবিত করেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। তার যে পারফরম্যান্স দেখে আমরা অভ্যস্ত, আমরা তাকে সেই পর্যায়েই দেখতে চাই।’
প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেই তামিম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘এখানে (মিরাজ, শান্ত ও লিটন) যারা যারা জড়িত, প্রত্যেকের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তারা আমাদের চিন্তাভাবনা বুঝেছেন এবং একমত হয়েছেন। কীভাবে আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এখানে কাউকে কিছু না জানিয়ে বা কারও সঙ্গে দ্বিমত রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল একটি রদবদল নয়, এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কৌশলগত কাঠামোর একটি নতুন রূপরেখা। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটন থাকবেন অধিনায়ক।
লিটনকে নিয়ে তামিম আলাদা করে বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমরা তার নেতৃত্বের গুণাবলীতে বেশ মুগ্ধ। আসলে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। ক্রিকেটকে সে যেভাবে দেখে, যেভাবে পরিকল্পনা করে, এসবই আমাদের বিবেচনায় ছিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে সে দুই-তিন মাস ধরে খেলছে, বিষয়টা কিন্তু তা নয়। এমন না যে দুই-তিন মাস আগে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে। সে বেশ কয়েক বছর ধরেই ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছে। আর তার অধীনে টি-টোয়েন্টি দলও খুব ভালো করেছে। এসব বিষয়ই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদকে বেছে নেওয়ার কারণও জানালেন তামিম,
‘তাওহীদ তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার। আমরা চাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করতে। শান্ত লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে ভালো করছে, আর লিটন সাদা বলে বলে অভিজ্ঞ। তাদের সঙ্গে হৃদয়কে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সে শিখতে পারে। সবার সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”