দেশবিদেশ ডেস্ক: | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নাবলুসের দক্ষিণে কুসরার রাস আল-আইন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। পরে তারা অবরুদ্ধ তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির দিকে রওনা দেন। সেখানে থাকা বাসিন্দাদের খোঁজ নেয়া এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
তবে ইসরায়েলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের বাড়িগুলোতে ঢুকতে বাধা দেয়। সেনাদের দাবি, এলাকাটি ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’। পরে বিক্ষোভকারীরা কোনোভাবে বাসিন্দাদের কাছে খাবার, পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।
এর আগে রাস আল-আইন এলাকায় তিন ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির বাইরে ইসরায়েলি দখলদাররা একটি তাঁবু পুনরায় স্থাপন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁবুটি সরিয়ে ফেলে দখলদাররা। তবে বাড়িগুলো ঘিরে অবরোধ অব্যাহত থাকে এবং বাসিন্দাদের চলাচল সীমিত করা হয়।
এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতিও অব্যাহত ছিল। সামরিক যান ও সেনাদের নিয়মিত কুসরায় প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। এর আগে, শত শত ইসরায়েলি সেনা কুসরা শহরে অভিযান চালায়। শহর পরিষদের প্রধান আব্দুল আজিম ওয়াদি জানান, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা ১৬টি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দখল করা ফিলিস্তিনি বাড়িগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনারা শুক্রবার সকালে সরে যায়। রাস আল-আইনের তিন পরিবার গত রোববার থেকে কয়েক ডজন ইসরায়েলি দখলদারের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। দখলদাররা বাড়িগুলোর বাইরে তাঁবু ও অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে এবং বাড়িগুলোর দিকে যাওয়া সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে খাদ্য, পানি ও ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, প্রায় চার মাস আগে থেকেই ইসরায়েলি দখলদাররা এসব বাড়ি দখলের চেষ্টা শুরু করে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর আশঙ্কা, তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করাই এই অবরোধের মূল উদ্দেশ্য। পরে তাদের সম্পত্তি দখল করে নেয়া হতে পারে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের হামলা আরও বেড়েছে। এর ফলে পশ্চিম তীরে জমি ও বাড়ি দখল এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার প্রবণতা নিয়ে ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।