দেশবিদেশ ডেস্ক: | শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 26 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অর্থ পাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের বর্তমান সরকারের অধীনে লক্ষ্যবস্তু হওয়া সর্বশেষ হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বে পরিণত হন ৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান দেউবা। এ কারণে নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ভোটও দিতে পারেননি তিনি। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে থাকার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নেপালি কংগ্রেসে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
১৪ থেকে ১৬ আগস্ট কাঠমান্ডুতে নেপালি কংগ্রেসের একটি অংশের জাতীয় সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে দেশটির পাঁচবারের এই প্রধানমন্ত্রীর। তিন দিনের এই আয়োজনে দলের পদধারী নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিদেশে থাকা দলীয় সমর্থকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, দেউবার মামলা এবং তাকে গ্রেপ্তারের যেকোনো সিদ্ধান্ত অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ দেখছে। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আমরা তাকে বিমানবন্দরে এবং তার সমাবেশে নিরাপত্তা দিচ্ছি।
দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর প্রথম নির্বাচনে যুব-চালিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্ল্যাটফর্মে শাহের ভূমিধস বিজয়ের এক মাস পর এই পরোয়ানাগুলো জারি করা হয়।
এপ্রিল মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করেন। তবে ইন্টারপোল সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দেউবা ও রানা আইনি পদক্ষেপ নেন। তাদের আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে বিশেষ আদালতের এখতিয়ার-সংক্রান্ত প্রশ্নের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না করার নির্দেশ দেন।
জুনে বিদেশে অবস্থান থেকেই তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান দেউবা ও রানা। তারা জানান, চিকিৎসার কারণেই দেশের বাইরে রয়েছেন তারা এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই।