শফিকুর রহমান | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 26 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন এবং মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একই সময়ে নতুন করে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চারজনই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং একজন মহেশখালীর বাসিন্দা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পঙ্কজ পাল জানান, চলতি বছর জেলায় ১৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এটি স্বস্তিদায়ক হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতি, বর্ষার সময় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা এবং পরিবেশগত নানা কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এডিস মশার বিস্তারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই সেখানে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক র্যালি, লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও এসব কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সংক্রামক রোগ ও ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, ডেঙ্গু একটি এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এর প্রধান লক্ষণ উচ্চমাত্রার জ্বর। পাশাপাশি শরীরব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমিভাব এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ কিনে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কিছু ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, এডিস মশা পরিষ্কার ও স্থির পানিতে জন্মায়। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, নারিকেলের খোসা, ভাঙা পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে দুই থেকে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশারি ব্যবহার, দরজা-জানালায় নেট লাগানো এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষাকালে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।