মো: ইউনুস অভি- টেকনাফ | শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 36 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা কয়েকদিন ধরে উত্তাল সাগরের কারণে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। বন্ধ রয়েছে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রলার চলাচল। এতে খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপ।
বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে সেন্টমার্টিন। ল্যাম্প, মোমবাতি ও চার্জলাইটের ক্ষীণ আলোই এখন অনেক পরিবারের একমাত্র ভরসা। বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে আতঙ্কের মধ্যে দিন-রাত পার করছেন দ্বীপবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আলম বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। উপকূল রক্ষাবাঁধ না থাকায় অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাতে জোয়ারের পানি আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু-মেরিন এনার্জি লিমিটেড সোলার ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। তবে বৈরী আবহাওয়া, জ্বালানি সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এতে ল্যাম্পের আলোই এখন অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র ভরসা।
আরেক বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি বাতাস এর কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বাসিন্দারা।
আবহাওয়ার দ্রুত উন্নতি না হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরাও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো দ্বীপ অন্ধকারে ডুবে আছে। উত্তাল সাগর ও জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যেবক্ষণ করছে বলে জানান।
প্রশাসন জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যেবক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বীপবাসীকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।