দেশবিদেশ ডেস্ক: | রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 24 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের পানি অবকাঠামোতে চালানো ধারাবাহিক সাইবার হামলার সময়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময় মিলে যায়। ওই হামলাগুলো হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছিল, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে জানা গেছে, স্থাপনাটি চার দিন অচল ছিল এবং কর্মীরা সেটি পুনরায় চালু করার জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন।
আক্রান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল এবং এর অচলাবস্থায় যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের বিষয়টি জানায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ, নির্দেশনা ও পরবর্তী করণীয় জানিয়ে চিঠি পাঠায়।
ঘটনাটি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারকে (এনসিএসসি) জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এনসিএসসি হলো গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউয়ের একটি জনসংশ্লিষ্ট শাখা, যা বিদেশি হুমকি থেকে জাতীয় অবকাঠামো নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়।
ব্রিটিশ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে। এসব গোষ্ঠী প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ও সরকারি সংস্থাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে বড় ধরনের সাইবার হামলায় এনএইচএসের বিভিন্ন ব্যবস্থা, স্কুল এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন স্থাপনা অচল হয়ে পড়েছিল। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের উৎপাদন লাইনও এর মধ্যে রয়েছে। বিদেশি হ্যাকাররা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের তথ্য এবং গত বছর নির্বাচন কমিশনের ভোটারদের তথ্যও চুরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তবে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কোনো হ্যাকার এর আগে যুক্তরাজ্যের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি অচল করতে পেরেছে বলে রেকর্ড নেই।
‘ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ড’
যুক্তরাজ্যে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত ছোট আকারের কয়েক ডজন বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর অনেকগুলো গ্যাসচালিত এবং সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ব্যবহার করা হয়। যেমন, বাতাসের গতি কমে গেলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হলে এগুলো চালু করা হয়।
এ ধরনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ থাকলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়বে না। কিছু কারখানা ও হাসপাতালের মতো স্থাপনার নিজস্ব পৃথক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলাগুলোতে কয়েক ডজন বর্জ্যপানি পরিশোধন কেন্দ্র আক্রান্ত হয়। এতে বন্যা এবং ইলেক্ট্রনিং কলের পানির চাপ কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছু কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের পান করার আগে পানি ফুটিয়ে নেয়ার পরামর্শও দেয়।
প্রথম হামলার খবর পাওয়া যায় ২৬ জুলাই মিনেসোটায়। এরপর মিশিগান, জর্জিয়া, সাউথ ডাকোটা ও নিউ জার্সিতে একই ধরনের কয়েকটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এফবিআই এসব ঘটনার জন্য ‘ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের’ দায়ী করে। পরে মার্কিন সরকারের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান, হুমকিটির উৎস তেহরান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার হামলা বেড়েছে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে। জার্মানি, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়ায় ইরানের সন্দেহভাজন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশই এসব হামলার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষ্য, বলছে সংবাদমাধ্যমটি।