দেশবিদেশ ডেস্ক: | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মৃত ওই যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষটি খোলার পর তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।
ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে যুবরাজের শরীরে মারাত্মক মাত্রায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতত্ত্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধ মাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর পাশাপাশি তার শরীরে ‘জিএইচবি’ নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার আলামত এবং জ্যানাক্সসহ (অ্যালপ্রাজোলাম) উদ্বেগ কমানোর বিভিন্ন ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে যুবরাজের কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, মদ ও একাধিক ওষুধের এই বিষাক্ত মিশ্রণই তার মৃত্যুর মূল কারণ।
তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় যুবরাজ একা হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন এবং একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন। কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কক্ষ থেকে কোনো চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়নি।
সহকারী করোনার জিন হারকিন তার রায়ে বলেন, ‘যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদকের বিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।’
শুনানিতে উপস্থাপন করা চিকিৎসা সনদের তথ্যমতে, মৃত্যুর আগে থেকেই এই সৌদি যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি লন্ডনের একটি রিহ্যাবে ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তি কাটানোর চিকিৎসা নেন। পরে অক্টোবরে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকেরা তাকে মানসিক অবসাদমুক্ত জানালেও, পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসকদের নির্ধারিত অনলাইন ফলোআপ সেশনগুলোতে আর অংশ নেননি।
যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী একজন মানুষ। রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র-দৈনিক ইত্তেফাক