| সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 31 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। গণমাধ্যমকর্মীরাও এ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা-ও নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।
তবে, এই নিষেধাজ্ঞা কি সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে দায়িত্বরত কর্মকর্তা— সবার জন্যই সমান? এই প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে যেতে পারবেন না ভোটাররা। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না।’
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কেউ মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে যান, তবে তাকে তা কেন্দ্রের বাইরে বা নিরাপদ কোনো স্থানে রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে কোনোভাবেই ছবি তোলা, ভিডিও করা বা ফোনে কথা বলা যাবে না।

কারা ছাড় পাচ্ছেন?
সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিন ধরনের ব্যক্তি মুঠোফোন নিয়ে যেতে পারবেন বলে সেখানে জানানো হয়েছে।
তারা হলেন- ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রের ভেতরে বা আশেপাশে অবাধে মোবাইল ফোন থাকলে গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই এই ৪০০ গজের বাধ্যবাধকতা। যদি কোনো ব্যক্তি এই আদেশ অমান্য করে ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার করেন বা ছবি তোলেন, তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, চিঠির ভাষা দেখে বুঝা যায়, সাংবাদিকরাও এর মধ্যে পড়বে। তারাও মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এ জন্য আগে আমরা যে সেকশন থেকে ইস্যু করা হয়েছে সেখানে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করছি, এ চিঠির মধ্যে সাংবাদিকরা পড়বেন কিনা। চিঠির ভাষা দেখে কিন্তু বোঝা যায় পড়বে। যদি তারা বলেন, না সাংবাদিকের ওপর এটা প্রযোজ্য না, তাহলে আমরা একটা ক্লিয়ারিফিকেশন দিয়ে দেবো। আর যদি সাংবাদিকদেরও ইনক্লুড করা হয় তাহলে আমরা কমিশনে একটু আলাপ করবো।