| শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 22 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার মাহার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের সাঁকো ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) বিকেলে সাঁকো উদ্বোধনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহার এলাকায় একটি খালের ওপর প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। খালের উত্তর পাড়ের হেরিংবোন সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় এবং জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। বিশেষ করে জেলে ও খালের আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেশি।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় স্থানীয় নারী-পুরুষ ছাড়াও বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক বাউলশিল্পী সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক স্বরচিত গান পরিবেশন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান কাঁচি দিয়ে সাঁকোর সামনে টানানো লাল ফিতা কাটছেন। পরে তার এক সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন।
একজন মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্বোধন শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানিয়েছে।’ অপর একজন লেখেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের সেতু দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করেছেন।’ আবার কেউ কেউ সাঁকো উদ্বোধনে ফিতা ও কাঁচি ব্যবহারের বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাঁকোটি নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলে সুবিধা হবে। জোয়ারের সময় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলেও সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার করা যাবে।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে।’
পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একাধিক নেতা বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে একজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতা হিসেবে এ ধরনের আয়োজনের ধরন নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘জোয়ারের পানি সড়কে উঠে যাওয়ায় বর্ষাকালে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। বিশেষ করে জেলে ও খালের আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেশি। এ কারণে আমরা নিজেদের অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মাণ করেছি।’