আনিছুর রহমান হীরু- কুতুবদিয়া | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 48 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক দূষণ হ্রাস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুতুবদিয়া ব্লু গার্ড দল জুলাই মাসব্যাপী সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সামুদ্রিক বর্জ্য পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দলের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেন।
জুলাই মাসে কুতুবদিয়া ব্লু গার্ড দল সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন অংশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্লাস্টিক, পলিথিন, পানীয়ের প্লাস্টিক বোতল, পরিত্যক্ত ও ছেঁড়া মাছ ধরার জাল, রাবারজাত বর্জ্য, কাঁচের বোতল এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে পরবর্তীতে পুনর্ব্যবহার অথবা পরিবেশসম্মত উপায়ে যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা যায়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি সৈকতে সংগৃহীত সামুদ্রিক বর্জ্যের ধরন, পরিমাণ ও ওজন নির্ধারণ করে একটি নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহ ফরমে লিপিবদ্ধ করা হয়। এসব তথ্য উপকূলীয় এলাকায় মেরিন লিটারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ, দূষণের মাত্রা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া জুলাই মাসে একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হয়। সেশনে সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যথাস্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন উপকূল গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
কুতুবদিয়া ব্লু গার্ড দলের সদস্যরা জানান, সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর শক্তি। নিয়মিত সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সামুদ্রিক বর্জ্য পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপকূল গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ভবিষ্যতেও তারা ধারাবাহিকভাবে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
উল্লেখ্য, ফিশারিজ লাইভলিহুড এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (FiLEP)-এর আওতায় গঠিত ব্লু গার্ড দলগুলো উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, মেরিন লিটার পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে এবং মৎস্য অধিদপ্তর, কক্সবাজার-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।