শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

  |   মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   85 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ হয়নি!

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের দাপট বাড়লে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও কক্সবাজারে সেই চিত্র কখনোই দেখা যায় না। শীত অনুভূত হলেও এই সমুদ্র উপকূলীয় জেলায় আজ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হয়নি—এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কক্সবাজারে কখনো শৈত্যপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণেও শৈত্যপ্রবাহের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারী, যা ১৯৫০ সালের পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।তবে এর আগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির চেয়ে কমেছে কিনা এমন তথ্য নথিবদ্ধ নেই হাওয়া দপ্তরে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়মিত হলেও উপকূলীয় এই জেলায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।শীতের মৌসুমেও তুলনামূলক উষ্ণ থাকে কক্সবাজারের প্রকৃতি।তবে শৈত্যপ্রবাহ না হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ভৌগোলিক অবস্থান

কক্সবাজার বাংলাদেশেরল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল শীতকালে তাপ সংরক্ষণ করে। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং স্থলভাগের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নামতে পারে না।স্থলভাগের তাপমাত্রা দ্রুত কমে বা বাড়ে, কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ধীরে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণে শীতকালে সমুদ্র আশপাশের এলাকায় একটি প্রাকৃতিক তাপ-ঢাল (thermal buffer) হিসেবে কাজ করে। এতে কক্সবাজারে তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না।শৈত্যপ্রবাহ মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এই শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতে হতে কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো তীব্রতা বজায় থাকে না।

বঙ্গোপসাগরীয় প্রভাব

কক্সবাজার সরাসরি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের উষ্ণতা শীতকালে প্রাকৃতিক তাপ-নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি সহজে ঠান্ডা না হওয়ায় আশপাশের বাতাস তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং তাপমাত্রার চরম পতন ঘটে না। এছাড়া শীতকালে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে যে শুষ্ক ও হিমেল বাতাস প্রবাহিত হয়, তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। এই আর্দ্রতা রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে দেয় না। পাশাপাশি পূর্বের পাহাড় ও পশ্চিমের সমুদ্র মিলিয়ে জেলার বিশেষ ভৌগোলিক বিন্যাসও শীতের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট—শীতের অনুভূতি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং আর্দ্র বাতাসের কারণে কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com