বার্তা পরিবেশক | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 31 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এসআই মোজাহেরুল ইসলাম ও এএসআই ওয়াসিমের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তার নামে অর্থ দাবি, টাকা গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জাফর আলম।
গত ১৯ আগস্ট কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার বাসিন্দা জাফর আলম।
অভিযোগে জাফর আলম উল্লেখ করেন, দক্ষিণ রাজঘাট, মাতারবাড়ী ও কালারমারছড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের বিষয়ে তিনি গত ৭ জুন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে ইউএনও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে মহেশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এসআই মোজাহেরুল ইসলাম ও কর্মকর্তা ওয়াসিম তাকে জানান, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে থানার ওসিকে টাকা দিতে হবে। টাকা দিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে জমির বিরোধ নিষ্পত্তি এবং খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ কাজের বিনিময়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির খাজনা বাবদ ৫ লাখ টাকা আদায় করে সেখান থেকে অর্ধেক নেওয়ার কথাও ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন জাফর আলম।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই জাফর আলম নিজ হাতে এসআই মোজাহেরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা দেন। একই দিন তার ভাই আলী আহমদ আরও ১০ হাজার টাকা দেন। অর্থাৎ মোট ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
টাকা দেওয়ার পর ওসির কার্যালয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তিন দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে তাকে জানানো হয়।
পরবর্তীতে গত ২০ জুলাই এসআই মোজাহেরুল ইসলাম তাকে জানান, ওসির নির্দেশে প্রতিপক্ষকে জমি থেকে উচ্ছেদ করে তার জমি তাকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং তিনি কর্মকর্তা ওয়াসিমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ে তারা ঘটনাস্থলে যাননি। এমনকি পরে ফোন করলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাফর আলম।
অভিযোগকারী আরও জানান, পরে তিনি ও হাজী জাকারিয়া পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে যোগাযোগ করলে এসআই মোজাহেরুল ইসলাম বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় গত ৪ আগস্ট ওই দুই কর্মকর্তা তার কাছ থেকে নেওয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত ১২ আগস্ট মহেশখালী থানার ওসির কাছে লিখিত তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার অনুরোধ জানালে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলেও অভিযোগ করেন জাফর আলম। এ সময় তাকে থানায় গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও জবরদখলের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এসআই মোজাহেরুল ইসলাম বিষয়টি ওসিকে মৌখিকভাবে জানাবেন বলে জানান।
জাফর আলমের অভিযোগ, পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে তার প্রতিপক্ষের কোনো ধরনের আর্থিক সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে। এমনকি তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেননি।
এদিকে অভিযোগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাফর আলম। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় দা-ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। এ সময় তিনি মাতারবাড়ী পুলিশের সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
জাফর আলমের দাবি, আইনি সহায়তার নামে অর্থ দাবি ও গ্রহণ, পরবর্তীতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং বিষয়টি নিষ্পত্তিতে গাফিলতির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।