বুধবার ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নৌকার চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   23 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নৌকার চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ।

মহেশখালী উপজেলার ৪ নং শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সৈরাচারের দোসর পলাতক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতি ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ পত্র দায়ের করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ পত্রটি বর্তমান পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে প্রদান করা হয়।তিনি অভিযোগ করেন শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয় গত ১২/১/২০২৫ ইং তারিখে, নিয়মানুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার কথা।তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেদায়েত উল্ল্যার সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কল্যাণ অফিসারকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে আদেশজারী করা হয়।কিন্তু পলাতক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরী হাইকোর্টে রিট করে আগের কমিটি বহাল রাখেন।

রিট করার সময় প্রত্যেক সদস্য হতে ৭০০০০/সত্তর হাজার টাকা করে মোট ৮,৪০,০০০০/আট লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা নেয়।চেয়ারম্যান কতৃক পেইজবুকে অশালীন মন্তব্য করা এবং পরিষদের সকল সদস্যদের পদ বাতিল বলে মাইকিং করা নিয়ে পাল্টা পাল্টি বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যায়,এ নিয়ে চেয়ারম্যান হুমকিও দিয়েছে।

ফলে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ তুলে এবং তাদের থেকে নেওয়া ৮,৪০,০০০ /টাকা ফেরত চায়।
আব্দুল খালেক চৌধুরী হুমকি দেন তার অনুপস্থিতিতে ২ বছরে কত টাকা কামাইছে সব নিয়ে নিবে।এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারার হুমকিও দিয়েছেন। বিষয়টি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মেম্বারদের পরিষদে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান এর লোক হামিদুল ইসলাম প্রহরিকে নির্দেশ প্রদান করেন।তিনি মুলত চেয়ারম্যান এর সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন।চেয়ারম্যান এর পালকপুত্র খ্যাত সেবায়েতের টিকাদারী কার্ড ব্যবহার করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসার সুদর্শনের সাথে আতাত করে সমস্ত বেশিরভাগ দূর্নীতির সুযোগ নিয়েছে হামিদুল ইসলাম।

তাছাড়া পরিষদের সচিব শাহজান মাতারবাড়ী বদলি হওয়ার পরও পুনরায় বহাল চেয়ে আবেদনও করে রেখে ছিলেন,তাকে দিয়ে পরিষদের সুবিধা নিয়েছেন।

উপজেলা মিটিং ম্যানেজ করা ও পরিষদে অনুপস্থিত থাকা,বিভিন্ন বাজেটের টাকা আত্মসাৎ করা,এজেন্ট নিয়োগ করে দূর্নীতি করা সব মিলে শাপলাপুরে কোন বিচার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

পরিষদ (১৯৭৪) সৃষ্টির৷ পর থেকে চেয়ারম্যান এর আপন চাচা ছিদ্দিক আহমদ চেয়ারম্যান ও ভাইপো খালেক চেয়ারম্যান মিলে প্রায় ৩৪ বছর পরিষদ বিভিন্ন ভাবে শাসন করে,কিন্তু আশানুরূপ কোন উন্নয়ন করেনি,২০০৩থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত একাধারে ১০বছর নির্বাচন ছাড়া পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার রেকর্ডও করেছেন।

অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে টিআরও কবিখা ছাড়া কোন প্রকল্প মেম্বারদের দেয়নি,তা থেকে এক-তৃতীয়াংশ চেয়ারম্যান নিয়ে নেয়,পরবর্তীতে ২ভাগ হতেও ১২% করে পার্সেন্টিস নেয়।এডিবি এবং ইউডিবি উন্নয়ন সহায়তা গোপনে গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করে।অথচ ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এডিবি’র ৩ টি বরাদ্দ থাকলেও কোন বরাদ্দ ইউপি সদস্যরা পাননি।

তাছাড়া শাপলা পুকুর খনন বাবৎ ২৭,০০,০০০/সাতাশ লক্ষ টাকার প্রকল্প+মাটি বিক্রি করার প্রশ্ন এখনো জনমনে রয়েই গেছে।স্কুল ও মাদ্রাসা এডহক কমিটির সভাপতি হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক একাউন্ট থেকে নামে বেনামে টাকা উত্তোলন করা,পরিষদের বাজেট থেকে প্রায় ১০লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিতর্কিত গেইট নির্মাণ করা,পরিষদের রুম কিংবা ক্যান্টিন সেলামী নিয়ে ভাড়া দেওয়া,শাপলাপুর মিনি ওয়ারটার সাপ্লাই প্রকল্পে লোক নিয়োগ দেওয়া,শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯লক্ষ টাকার বিনিময়ে সহকারী প্রধান নিয়োগ দেওয়া,সার্টিফিকেট ছাড়া মঞ্জুর আলমে প্রধান শিক্ষক করা,একজন কেরানি পোস্টের ব্যক্তি সিরাজুল ইসলামকে শাপলাপুর আলিম মাদ্রাসার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বানানোসহ হাজারো দূর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।তাছাড়া ঘোনা দখল ও বনকাটার অভিযোগ শেফয়তের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই আছে।

অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ একজন চেয়ারম্যানের সাথে যায় না,তাকে ভোট দেয়নি এমন অভিযোগে পরিষদ থেকে বের করে দিয়ে পরিষদে আসতে মানা করেন।
তিনি সৈরাচারের দোসর ও জুলাই হত্যা মামলার আসামী, সুতরাং তার সকল অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে অনলাইনে ঝড় ওঠেছে।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল ইসলাম তার অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে পেইজবুকে স্টাটাস দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষ তার হস্তক্ষেপ থেকে শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ মুক্ত দেখতে চায়।শেখ হাসির মত তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com