| সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 21 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল হাত মেলাননি এমন দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বাইরে প্রকাশিত স্থিরচিত্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য বলছে, বাস্তবে ট্রাম্প ও ইয়ামালের মধ্যে করমর্দন হয়েছিল।
সোমবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা।
ফাইনাল দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের খেলোয়াড়দের পদক তুলে দেওয়ার সময় ট্রাম্পের উপস্থিতি ক্যামেরাবন্দি হয়। সেই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় লামিনে ইয়ামাল ট্রাম্পের কাছ থেকে পদক গ্রহণ করছেন। ভিডিওটির একটি অংশ দেখে অনেকেই দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন না করেই ইয়ামাল এগিয়ে যান।
তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থিরচিত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রয়টার্স কানেক্টের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, পদক গ্রহণের সময় ট্রাম্প ও ইয়ামালের মধ্যে করমর্দন হয়েছে। ছবিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পদক গ্রহণের সময় ইয়ামাল মাথা নেড়ে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। ফলে ভাইরাল ভিডিওতে যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, প্রকাশিত ছবি তা সমর্থন করে না।
বিশ্বকাপটি ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে লামিনে ইয়ামালের জন্য। মাত্র ১৯ বছর বয়সে অভিষেক বিশ্বকাপ খেলেই তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা একটি হলেও স্পেনের আক্রমণভাগে তার গতি, সৃজনশীলতা ও ম্যাচে প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লাব ফুটবলেও সময়টা দারুণ কাটছে বার্সেলোনার এই উইঙ্গারের। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে স্প্যানিশ লিগ শিরোপা জয়ের পর এবার জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপও জিতলেন তিনি। অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ও বিশ্ব ফুটবলের বড় দুই মঞ্চে সাফল্য পাওয়ায় ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে ইয়ামালকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলে সাফল্য এবং বিশ্বকাপ জয়ের কারণে ইয়ামালকে সম্ভাব্য দাবিদারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন বল’ জেতা স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।