শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি গাছের হরিলুট, বেপরোয়া গাছ-চোর চক্র!

শাহারিয়া নাজিম জয়- রামু   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   20 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি গাছের হরিলুট, বেপরোয়া গাছ-চোর চক্র!

সারাদেশকে সবুজে সুশোভিত করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল ও যুগান্তকারী জাতীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সরকারের এই প্রশংসনীয় সবুজ বিপ্লবের মূল ভাবনার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে কক্সবাজারের রামুতে। একদিকে যখন সারাদেশে নতুন গাছ লাগানোর মহোৎসব চলাই লক্ষ্য, অন্যদিকে সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক-জনপথ অধিদপ্তরের চরম দায়িত্বহীনতা ও নীরবতার সুযোগে মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনকারী শতবর্ষী সরকারি গাছগুলো কেটে দিনের পর দিন সাবাড় করে চলেছে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র।

ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের টানা অভিযোগে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। রামু বাইপাস থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মূল্যবান সরকারি গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চুরি করে কেটে বিক্রি করে আসছে এক বেপরোয়া বাপ-ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ০৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরংলোয়া এলাকার মৃত ছৈয়দুর রহমানের ছেলে মুজিবুল হক এবং তার ছেলে মীর ইয়াহিয়া অনিক।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল হকসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রামু উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, কক্সবাজারের নাকের ডগায় এমন অপরাধ ঘটলেও যেন তাদের ঘুম ভাঙে না। গাছ চুরির বিষয়টি বারবার অবহিত করার পরও সওজ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা, উদাসীনতা ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই অসাধু সিন্ডিকেটটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সওজ ও রামু উপজেলা প্রশাসনের এই চরম গাফিলতি এবং বেপরোয়া গাছ চুরির বলী হতে হয়েছে এক নিরপরাধ পথচারীকে। গত ২৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু ফুটবল চত্বর পার হয়ে পুরাতন বাইপাস ব্রিজের কাছে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সংকেত বা ব্যারিকেড ছাড়াই শ্রমিক দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটাচ্ছিলেন মুজিবুল হক ও তার ছেলে মীর ইয়াহিয়া অনিক। এ সময় চকরিয়ার বাসিন্দা শুলক বড়ুয়া বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর হঠাৎ একটি বিশালাকার সরকারি গাছ ভেঙে পড়ে। গাছের প্রচণ্ড আঘাতে শুলকের ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একই সাথে তার ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ‘R15 V3’ মডেলের প্রিয় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আবু বকর সিদ্দীক জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির প্রেক্ষিতে আমরা এ বছর প্রায় ১৫ হাজার গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে তারা চুরি করে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই শুভ পরিকল্পনা পণ্ডকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অতি দ্রুত আইনি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি বন বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে জানাচ্ছি। পরবর্তীতে নিজের ভূমিকার প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি গাছ যদি কাটা হয়ে থাকে, তবে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

দিনের পর দিন প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি চুরি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের কিছুই না জানার এই অসংলগ্ন বক্তব্য তাদের চরম ব্যর্থতা ও তদারকির অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কোটি কোটি চারা রোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পেছনে সওজ ও রামু উপজেলা প্রশাসনের এই অবহেলাই মূল দায়ী। প্রশাসনিক নমনীয়তার কারণেই আজ চোর চক্র বেপরোয়া হয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার সাহস পেয়েছে।

অবিলম্বে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করা অসাধু মুজিবুল হক ও তার ছেলে মীর ইয়াহিয়া অনিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা, তাদের মদদদাতা সওজ ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রামুর সর্বস্তরের জনগণ।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com