এম ফেরদৌস | রবিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 120 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী নতুনবাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে ভয়ংকর এক অবৈধ হুন্ডি ও পাহাড় কেটে দালান নির্মাণ সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এই চক্রের মূল হোতা।
বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করেও তিনি দেশে পরিচালনা করছেন কোটি টাকার হুন্ডি নেটওয়ার্ক।
অভিযোগ উঠেছে, নাসির শুধু অর্থ পাচারই করছেন না, বরং সরকারি পাহাড় কেটে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন— যা স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের ঘুষের বিনিময়ে গোপন রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকেই।
সরেজমিন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে নাসির উদ্দিন অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যান। সেখানে থেকেই তিনি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে দেশে শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, যার মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
নাসির উদ্দিন ও তার স্ত্রী জুবাইদা বেগম এলাকার বেকার যুবকদের মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে । সমুদ্রপথে পাঠানোর নামেও প্রতারণা করা হয়েছে অনেকের সাথে এমন তথ্যেও বেরিয়ে এসেছে।
হাতে আসা কয়েকটি স্কিনস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গেল মাসে বিকাশ-নগদের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে এবং ব্যালেন্স ও বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, নাসির উদ্দিন সরকারি বন বিভাগের জায়গায় পাহাড় কেটে বহুতল ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তার হুন্ডি নেটওয়ার্ক ও বিশাল আকার। তার অপরাধের মাত্রাও দিন দিন বেড়ে চলছে। অনেকে মনে করছেন, বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বনের জায়গায় দালান নির্মাণের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ( সহকারী বন সংরক্ষক) রাশিক আহসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বনের জায়গা অবৈধভাবে জবরদখল বা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সত্য হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, সরকারি পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে নাসির উদ্দিন শুধু পরিবেশ ধ্বংসই করছেন না, বরং প্রশাসনের আইনকেও উপহাস করছেন।
বিদেশে অবস্থানরত নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন, আগে হুন্ডির ব্যবসা করতেন, তবে বর্তমানে আর করেন না। হাতে বিকাশ-নগদের স্কিনস্ট আসছে এমন প্রশ্নে র জবাবে বলেন,থাকলে কি হয়ছে এগুলা আমার আইডি কার্ড দিয়ে খোলা হয়নি বিকাশ। আমাকে ধরতে পারবে না বলে উচু গলায় কথা বলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসির উদ্দিনের স্ত্রী জুবাইদা বেগম তার অবৈধ কার্যক্রমের প্রধান সহযোগী হিসাবে এলাকায় কাজ করছেন। তিনি হুন্ডি লেনদেন ছাড়াও বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবৎ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নাসির বিদেশে বসে যা বলে, জুবাইদা এখান থেকে তা বাস্তবায়ন করে। পুরো সিন্ডিকেটটা তাদের দুজনের নিয়ন্ত্রণে।
অনুসন্ধান ও তথ্য সূত্র বলছে , নাসির উদ্দিন নিয়মিতভাবে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিরের কালো টাকার প্রভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলও তাকে ছায়া দিচ্ছে, ফলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় থাকা নাসির উদ্দিনের জন্য বৈধ কাগজপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যাতে তিনি সহজে দেশে ফিরতে পারেন। এতে মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক জালিয়াতির বড় চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, নাসির উদ্দিন ও তার স্ত্রী জুবাইদা বেগমের হুন্ডি সিন্ডিকেট শুধু অর্থ পাচারই করছে না, বরং প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতির গভীর শেকড় গেঁড়ে বসেছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে চকরিয়া-খুটাখালী পরিণত হবে অবৈধ অর্থ ও অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
ডিবিএন/জেইউ।