মাহাবুবুর রহমান | সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 134 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজার শহর থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জে, হরেক রকমের চিপস, ললিপপ, চকলেট, আচার, জুস, জেলি, পপ্পন ভাজা, সনপাপড়ি, ক্যান্ডি, চানাচুর, মটর ভাজা, কেকসহ ভ্রাম্যমান দোকান থেকে শুরু করে প্রায় সব বিপণীতে বাহারি মোড়কে শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের শিশুখাদ্য।
জাতীয় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও বেনামী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যে দোকানগুলোতে পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন বিপনন প্রতিনিধিরা। এসব খাদ্যে অধিকাংশেরই মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। অনেক পণ্যের উৎপাদন থেকে খাবার উপযোগী সময়ের মেয়াদও নেই। এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে এসব খাবারে। তবে এ সব বিষয় দেখাশুনার জন্য সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে হয় না।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন রামু চাকমারকুল ইউনিয়নের প্রবাসী আবদু রহিমের ছেলে রাহাত ইসলাম (৬) তার মা নুর আয়েশা জানান,ছেলের প্রায় ২ বছর ধরে পেট ব্যাথা জনিত সমস্যা লেগেই থাকে। প্রায় সময় গ্রামে এবং পরে বিভিন্ন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছি,কিছুদিন ঔষধ খেলে ভাল থাকে। পরে আবার পেট ব্যাথা শুরু হয়।
সর্বশেষ ২ দিন আগে প্রচন্ড পেট ব্যাথা হলে সদর হাপসাতালে ভর্তি করি। এ সময় কর্তব্যরত এক ইন্টার ডাক্তার বলেন,শিশুটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন মানহীন এবং রংমেশানো খাবার খেয়েছে তার ফলে তার পেটে বড় ধরনের সমস্যা বিশেষ করে হজম সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই ইন্টার্ন ডাক্তার বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগির মধ্যে শিশু রোগির এটি কমন সমস্যা,মূলত দোকানের আজেবাজে খাবার খেয়ে তারা অভ্যস্ত,প্রথম প্রথম সমস্যা তীব্র না হলেও পরে গিয়ে বাচ্চার দীর্ঘমেয়াদী বড় সমস্যা দেখা যায়। অনেক শিশু লিভার সমস্যা ও হয়েছে দেখা গেছে।
শহরের ইউনিয়ন হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগির অভিভাবক খুরুশকুলের আলমগীর হোসেন বলেন,মেয়ের বয়স ৯ বছর। প্রচন্ড পেট ব্যাথা এবং বমি হচ্ছে সে কারনে ভর্তি করিয়েছি। তিনি জানান,ডাক্তার বলেছে মূলত খাবার থেকে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এটা সত্যি মেয়ে দোকানের জিনিস বেশি খায়। ভাত বা ঘরে তৈরি জিনিক খেতে চায় না। কিন্তু দোকান থেকে চিপস,জুস,চকলেট,সিঙ্গারা এ জাতিয় খাবার বেশি খেতে চায়।
শহরের কালুরদোকান এলাকার কয়েকটি মুদির দোকান ও বিপনী বিতানে গিয়ে দেখা গেছে অন্তুত ১০০ রকমের শিশু খাদ্য আছে। যার মধ্যে কয়েকটি চেক করে দেখা গেছে মেয়াদ বা অনুমোদনের তারিখে কোথাও নাই। আবার কত বছর বয়সের বাচ্চারা খেতে পারবে তাও লেখা নেই। জানতে চাইলে দোকান মালিকরা বলেন,এগুলো বেশ ভাল চলে,তাই চাহিদা থাকার কারনে আমরা কিনি। আর মেয়াদ বা অন্যান্য কিছু কেউ দেখেনা।
পিএমখালী ইউনিয়র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা: নুরুল আবছার বলেন,গ্রামের শিশুদের এই সমস্যা একেবারে কমন। এখানে শিশুদের চেয়ে অভিভাবকরা আরো বেশি অসচেতন। তারা শিশুদের ঘরের খাবারের চেয়ে দোকানের খাবারেই বেশি অভ্যস্ত করে। আবার পূর্ণ বয়স্ক মানুষরা বাজারের কিছু এনার্জি ড্রিংক পান করছে প্রতিনিয়ত। এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নুরুল আলম বলেন, বাজারের হরেক রকমের নিম্নমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেয়ে শিশুদের পেট ব্যাথা, আমশা, ডায়েরিয়া, কিডনীতে সমস্যাসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ৯৮% কারন হচ্ছে বাজারের রং মিশ্রিত মানহীন খাবার গ্রহনের কারনে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল বলে, দোকানগুলোতে শিশুদের পছন্দের ললিপপ, চকলেট, আচার, জুস, জেলি, পপ্পন ভাজা, সনপাপড়ি, ক্যান্ডি, চানাচুর, মটর ভাজা, কেকসহ হরেক রকম শিশুখাদ্য বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি মুনাফার লোভে দোকানীরা এসব পণ্য বিক্রি করছেন। গ্রামঞ্চলের টং দোকান থেকে শুরু করে শহরের নামীদামী বিপনী বিতানেও বিক্রি হওয়া মানহীন শিশুখাদ্যে প্রচুর ভেজাল রয়েছে। এসব খাবার খেলে শিশুদের পেট ব্যাথা,বমি,জন্ডিস,আমশা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। দীর্ঘদিন নিম্নমানের খাবার খেলে শিশুরা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়া খাদ্যে ফুড ক্যালার করা একবারেই নিষিদ্ধ। যত্রতত্র শিশু খাদ্য বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু আইন কেউ মানছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এসব বিষয়ে এগিয়ে আসলে ভাল হবে।
ডিবিএন/জেইউ।