| শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 139 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের এব ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে উখিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ১৩০ টি সাবমারসিবল নলকূপ স্থাপনের বরাদ্ধ ছিল। যার মধ্যে ৬৫ টি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বাকি ৬৫ টি সংসদ সসদ্যের জন্য বরাদ্ধ ছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বিগত আওয়ামীলীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার চৌধুরী কোন সাইড সিলেক্ট করে লিস্ট দেন নি। পরে সংসদের প্যাডে স্বাক্ষর জাল করে ৬৫ টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় এত প্রতিটি নলকূপ স্থাপনের জন্য ৪০/৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। পুরু অনিয়মের নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: শরীফ ইমতিয়াজ।
যার মধ্যে ৩৫ টি নলকূপের সাইড লিস্ট করেন মোকানিক মো: শাহজাহান, ২০ টি নলকূপের সাইট লিস্ট করেন মেকানিক মো: রুবেল দেবনাথ, আর ৬৫ টি নলকূল স্থাপনের সাইট ঠিকাদারের বাড়ি রত্নাপালং হওয়ার উক্ত লিস্টের বেশির ভাগ লোকই রত্নাপালংয়ের। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস সরকারের পতন হলে উখিয়ায় নলকূপ স্থাপন নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নলকূপ স্থাপনে অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট দৃষ্টি আকর্ষণ হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ সহকারী প্রকৌশলী শরিফ ইমতিয়াজকে তাৎক্ষণিক বদলি করে।
এদিকে ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সরজমিনে তদন্তে আসা কক্সবাজার দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্যের প্যাড ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২০২৩/২৪ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত নলকূপ স্থাপন কাজে অর্থ আদায় ও আত্মসাৎ করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে যাচাই করার উদ্দেশ্যে দুদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুদক টিম প্রথমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কক্সবাজার থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। পরে রেকর্ড পত্র সহ উখিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আসলে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। যার ফলে সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত প্যাড এর কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান তদন্তকালে স্থানীয় ব্যক্তি দের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকি রেকর্ড পত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধান কার্যালয় বরাবর এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ ব্যপারে উখিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, নলকূপ স্থাপনে অনিয়ম কিংবা তৎকালীন সংসদ সদস্যের প্যাডে স্বাক্ষর জাল বিষয়টি বিগত ২০২৩ – ২৪ অর্থবছরের বছরের। নভেম্বর মাসে তিনি কেবল অফিসের যোগদান করেছেন।বিষয়টির ব্যাপারে তিনি তেমন কিছু জানে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, উখিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জি এম মোক্তাদির জানান,গতকাল দুদক টিম অফিসে এসেছিল। তবে আমি ছুটিতে আছি। আর উনাদের যে অভিযোগ তা কাগজপত্র দেখা ছাড়া বলতে পারছি না। আর লিস্ট ছাড়া আমরা কোন কাজ করিনা। তার পরও কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তে উঠে আসবে।
ডিবিএন/জেইউ।