শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

এনজিওতে নিয়োগে স্থানীয়দের ৬০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে- এমপি কাজল

দেশবিদেশ ডেস্ক:   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   23 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এনজিওতে নিয়োগে স্থানীয়দের ৬০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে- এমপি কাজল

কক্সবাজারের এনজিওগুলোতে কর্মরত স্থানীয়দের নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধায় চরম বৈষম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়দের ছোট পদে রাখা, বহিরাগতদের শীর্ষ পদে নিয়োগ এবং ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতিসহ নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন স্থানীয়রা। মেধা ও যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে বহিরাগতদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় উঠে আসে। স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব স্থানীয়দের হওয়া উচিত হলেও, উখিয়া ও টেকনাফের মতো এলাকায় হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র নিম্নপদে কর্মরত আছেন।

শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প বা অন্যান্য দূর্যোগ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও সহায়তায় প্রায়শই বৈষম্য দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রাপ্য অংশ অনেক সময় নামমাত্র ও অপ্রতুলভাবে দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত কয়েকবছর থেকে সড়কে নেমে আন্দোলন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের। এরপরেও ফলদায়ক তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। বরাবরের মতোই এনজিওগুলোর কাছে বৈষম্য’র শিকার হয়ে আসছেন স্থানীয় জনগোষ্ঠী। এবার এসব বিষয়ে সরাসরি এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করে হোস্ট কমিউনিটির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরির নিশ্চয়তার বিষয়ে সরাসরি আলাপ করেছেন কক্সবাজার- ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল। বুধবার ( ০৯ জুলাই ) সকাল ১০ টায় এমপি কাজল আগারগাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ( সচিব ) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়ার সাথে সাক্ষাৎ -এ মিলিত হয়। দীর্ঘ সময় আলাপকালে হোস্ট কমিউনিটি ( স্থানীয় জনগোষ্ঠী ) চাকরির নিশ্চয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনা হয়। এসময় মহাপরিচালকের হাতে ডিওপত্র হস্তান্তর করেন এমপি কাজল। পত্রে তিনি তুলে ধরেছেন, এনজিওতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বৈষম্যের কথা। তিনি কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন৷ পত্রে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনক্রমে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। BRAC, Caritas Bangladesh, CARE Bangladesh, World Vision Bangladesh, Save the Children, Danish Refugee Council (DRC), Norwegian Refugee Council (NRC), International Rescue Committee (IRC), Action Against Hunger (ACF), Islamic Relief, COAST Foundation, Friendship, Muslim Aid Bangladesh-সহ অসংখ্য সংস্থা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি হোস্ট কমিউনিটির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাস্তবতায় হোস্ট কমিউনিটির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের উন্নয়নকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

এমতাবস্থায়, কক্সবাজার জেলার যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয় জনগণকে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওসমূহে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানপূর্বক কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় বিবেচনা কামনা করছি।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই হবে। বিষয়টি মানবিক ও জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।

এমপি কাজল আশা করে বলেছেন, এটা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের একটি বিশাল যুবসমাজ কর্মমুখী হবেন এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব এবং বেকারত্ব তরুণদের মধ্যে হতাশা ও অলসতা বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁদেরকে হতাশা থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টির ফলে যুবসমাজ অর্থপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগ পায়, ফলে তাদের আয় বাড়ে, আত্মবিশ্বাস ফেরে এবং মাদক থেকে দূরে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়। এনজিওতে চাকরির ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা হওয়া খুব বেশি প্রয়োজন। নীতিমালার আওতায় আসলে সবাই চাকরি করার সুযোগ পাবে। এখানে আর কোন বৈষম্য থাকবে না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। ###
সংবাদ প্রেরক:
তাজুল ইসলাম পলাশ
০৯ জুলাই ২০২৬
মোবাইল : ০১৭১৮৫৯৮৫২৯

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com