এম ফেরদৌস | সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 144 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
শীতের শুরু মানেই কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণ প্রেমীরা ছুটে আসছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু আনন্দ ভ্রমণের সেই উচ্ছ্বাস ম্লান করে দিচ্ছে শহরের তীব্র যানজট। ব্যাটারি চালিত ত্রি-হুইলার (মিশুক ও টমটম) এখন কক্সবাজার শহরজুড়ে রাজত্ব করছে।ফলে পর্যটক ও স্থানীয়রা প্রতিদিনই পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে সৈকতের প্রবেশমুখ পর্যন্ত দাপট চলে ব্যাটারি চালিত ত্রি-হুইলার অবৈধ গাড়ির।
পর্যটকরা দিনের বেলায় সৈকতে ঘুরাঘুরি, সন্ধ্যায় কেনাকাটা বা খাবারের উদ্দেশ্যে বের হলেই পড়ে যেতে হয় রাস্তায় স্থবির যানবাহনের জটলায়। বিশেষ করে, হাসপাতাল সড়ক মোড়, বাজারঘাটা, বড়বাজার,কলাতলীর মোড়, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, কোথাও চলাচল নির্বিঘ্ন নয়। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। রবিবার (৯ নভেম্বর) সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরের যানজটের প্রধান কারণ লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ব্যাটারি চালিত মিশুক ও টমটমের অদক্ষ ‘অপ্রাপ্ত’ চালক। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন হাজার হাজার এসব যান শহরের প্রতিটি সড়কে চলছে অবাধে।
কক্সবাজার পৌরসভার লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা আনোয়ার বলেছেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে নতুন-পুরাতন মিলে মোট ৪০০০/ হাজার টমটমের লাইসেন্স নবায়ন ছিল। তবে,কোন মিশুক গাড়ির লাইসেন্স ছিল না, নতুন করেও ইস্যু হয়নি। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত টমটমের লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন কোন লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা জানান, শহরে বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার ব্যাটারি চালিত যান চলাচল করছে। যার মধ্যে হাতেঘোনা কয়েকশো টমটম ছাড়া, মিশুকসহ বাকি সব ত্রি-হুইলার অবৈধ। এসব অবৈধ ব্যাটারি চালিত মিশুক আর টমটম প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানে চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেছেন, শুক্রবার-শনিবার পর্যটক বেশি এলেই শহরটা পুরোপুরি থেমে যায়। মিশুক-টমটম রাস্তাজুড়ে থাকে, ট্রাফিক আইন কেউ মানে না। আমরা যারা স্থানীয় আছি তাদের নানা সমস্যা হয়ে যায়,পর্যটকরা তো বিরক্তিকর হচ্ছেই।
গুনগাছতলা মোড়ে একজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেশিরভাগ মিশুক চালক কিশোর বা তরুণ। তারা সিগন্যাল মানে না, উল্টোপথে চলে। আটকাতে গেলে সুপারিশ আসে নানা দিক থেকে, ফলে কিছুই করা যায় না। জনগণের কাছে আমরা অসহায়।
কক্সবাজার পৌরসভার আরেক কর্মকর্তা জানান, আমরা একাধিকবার অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন চাপের কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।
দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের বিরক্তি বাড়ছে। সিলেট থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সজিব হোসাইন বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য যেমন মন ভরায়, তেমনি রাস্তায় উঠলেই মনটা ভরে যায় হতাশায়। কক্সবাজার এখন যেন পর্যটনকেন্দ্র নয়, ব্যাটারি চালিত গাড়ির যানজট কেন্দ্র।
কক্সবাজার পৌরসভার পৌর প্রশাসক (উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার) মো: শামীম আল ইমরান বলেছেন, এ পর্যন্ত কোন (ত্রি-হুইলার) মিশুক গাড়ি বা নতুন কোন টমটমকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) অলক বিশ্বাস বলেন, শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পর্যটন মৌসুমে সড়কে গাড়ির সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় মাঝে মধ্যে যানযট সৃষ্টি হয়। এসব নিরসনে সার্বক্ষণিক কাজ করছে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ।
এদিকে পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, কক্সবাজারে অবৈধ মিশুক ও টমটম নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালু, পর্যটন মৌসুমে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি,এসব পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
ডিবিএন/জেইউ।