নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 130 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ১৩ নভেম্বর সকাল থেকেই বিরাজ করছিল একধরনের অজানা আতঙ্ক। নাশকতা, হামলা বা অপ্রত্যাশিত ঘটনার আশঙ্কায় মানুষ ছিল শঙ্কিত। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই সৈকতনগরীজুড়ে দেখা যায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের যৌথ তৎপরতা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট, বাজারঘাটা, লিংকরোড, হোটেল-মোটেল জোন, সর্বত্রই ছিল কড়া নজরদারি।
যানবাহন থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে সন্দেহভাজন সিএনজি ও প্রাইভেটকারগুলোর পার্টস খুলে পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদের একসঙ্গে মাঠে দেখা গেছে।
যদিও সকাল থেকেই শহরের পরিবেশ ছিল থমথমে, তবে কোনো ধরনের নাশকতা, হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকালের দিকে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও জনসমাগম ছিল তুলনামূলক কম।
কক্সবাজার বাস থার্মিনালের এক দোকান মালিক বলেন, মানুষের ভয় ছিল কিছু একটা ঘটতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে দিনটা শান্তিতেই কেটেছে।
স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও সমন্বিত তৎপরতায় সারাদিন শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে শহরবাসীর দিন।
পৌরসভার জিয়া মালিক বলেছেন, আজ সারাদিন দেখেছি সেনা, পুলিশ, র্যাব সবাই মিলে কাজ করছে। তাই কোনো ভয় বা বিশৃঙ্খলা হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই বলেছেন, এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত।
সন্ধ্যার দিকে দেখা গেছে, শহরের চিত্র ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। সন্ধ্যার পর যান চলাচল ও মানুষের আনাগোনা বাড়ে আগের মতোই ফিরে আসে।
টহলে থাকা একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত পর্যন্ত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যেন কোনো অঘটন না ঘটে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( মিডিয়া) অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, যেখনো নাশকতা ও গুপ্ত হামলা এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। জনসাধারণের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সরকারের অনেক বাহিনী কাজ করছেন মাঠে।
ডিবিএন/জেইউ।