নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 87 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও স্বশস্ত্র ডাকাত দল পাহাড়ের গহীনে পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ডাকাত দল অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলে অপহরণ, খুন,মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে এসব চক্র সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর একটি চৌকস দল অধিনায়কের নেতৃত্বে তিন স্তরের রণকৌশল গ্রহণ করে অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে রঙ্গীখালী পাহাড়ে ডাকাত দলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় ডাকাতরা বিজিবির দিকে গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ডাকাত দলটি তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে পাশ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
G-3 রাইফেল – ১টি,G-3 রাইফেলের অংশ বিশেষ – ১টি,G-3 ম্যাগাজিন – ১টি,ওয়ান শুটার গান – ৪টি,এলজি শুটার গান – ১টি,MA-1 (Variant MK2) – ১টি,একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল) – ১টি
সিলিং – ২টি,আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড – ৩টি (লিভারসহ),মর্টারের গোলা – ১টি,গান পাউডার – ১৭ কেজি,হাত বোমা তৈরির উপকরণ – ১০টি
চাপাতি – ৮টি,ছুরি – ৫টি,কাঁচি – ১টি,বিভিন্ন ধরনের গুলি – মোট ৩০২ রাউন্ড,ব্যবহৃত গুলির খালি খোসা – ৫৪ রাউন্ড,প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
বিজিবি জানায়, গত ১ মার্চ ২০২৫ থেকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) চোরাচালান ও অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সময় প্রায় ১১৯ কোটি টাকার বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, মদ, বিয়ার ও ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ ৮৮ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মর্টার শেল ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিএসসি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এ ধরনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দেশের সর্বদক্ষিণে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।