শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

চকরিয়ায় বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে হামলা

  |   সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   93 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চকরিয়ায় বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে হামলা

 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা জুড়ে চলছে বালু খেকোদের উৎপাত। বিভিন্ন ছড়াখাল ও মাতামুহুরী নদী থেকে দিনরাত সেলো মেশিন দিয়ে উত্তোলন করছে বালু। এতো কিছুর পরও চুপ রয়েছে প্রশাসন।
গতকাল (২২ ফেব্রæয়ারি) বিকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেপা এলাকায় কালের কন্ঠের ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশের ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক বালু উত্তোলন নিয়ে সরজমিন প্রতিবেদন করতে যায়।

এসময় বালু খেকোর দল অতর্কিত হামলা চালিয়ে তিন সাংবাদিককে গুরুতর আহত করে। এরমধ্যে সাংবাদিক জিয়াবুল হকের অবস্থা আশংকাজনক। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য দুই সাংবাদিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় অবস্থান করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে সেলো মেশিন বসিয়ে রাতদিন বালু উত্তোলন করছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালু খেকো। এসব বালু রাতের আধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা।
আরও জানা গেছে, নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে সেলো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্গন করেছে।

বালু খেকোদের হামলায় আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বলেন, বালু খেকো নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে হারবাং ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে রবিবার বিকালে ঘটনাস্থলে যায়। আমরা যাওয়ার সাথে সাথে কিছু বুঝার আগেই নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলায় চালায়। আমাদেরকে প্রায় দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
তিনি আরও বলেন, তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি আমাদের। তাদের দেশীয় অস্ত্রের দিয়ে মারধরের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়। তার হাতে হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে। আমাদের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, সাংবাদিকদের হামলায় ঘটনাটি জানাজানি হলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। দ্রæত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানান কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে হামলার প্রায় ২০ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোর অপরাধীকে আটক করেনি প্রশাসন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনির হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি কেউ অবগত করেনি। লিখিত বা মৌখিকভাবেও কেউ জানাইনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলায়ার বলেন, সাংবাদিকদের উপর হাত তোলা চরম অন্যায়। এটা কোনভাবে কাম্য না। আমি এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পাঠাবো। বিষয়টি আমি দেখছি।###

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com