নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া | বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 227 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
উখিয়ায় লোকালয়ের বিল থেকে ‘বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে স্পৃষ্ট’ হয়ে মারা যাওয়া এক বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বনকর্মীরা।
বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানাছেন, সোমবার গভীর রাতের যে কোনো সময় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খয়রাতি রহমানিয়া পাড়া সংলগ্ন বিলে এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, মৃত উদ্ধার হাতিটির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। হাতিটির শরীরের কয়েকটি জায়গায় কালচে পুড়া দাগ রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার পশ্চিম খয়রাতি রহমানিয়া পাড়া সংলগ্ন বিলে একটি বড় আকারের বন্যহাতি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করেন তারা। ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর বনকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় স্থানীয় বিলে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা হাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে না পারলেও শরীরে কালচে পোড়া দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হতে পারে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পল্লী চিকিৎসক মো. ইউনুস বলেন, পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে বন্যহাতি ও মানুষের দ্বন্ধ দীর্ঘদিনের। এতে অনেক সময় বন্যহাতি লোকালয়ে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময় পাহাড়ী এলাকার আশপাশে বন্যহাতির বিচরণ বেড়ে গেছে। এতে লোকালয়ে আসা হাতির হানায় ফসলের ক্ষেত এবং বসত ঘর নষ্টের ঘটনা ঘটেছে।
আর বন্যহাতির কাছ থেকে ফসলি ক্ষেত ও বসত ঘর রক্ষায় অনেকে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ বসিয়েছে। এতে লোকালয়ে নেমে আসা বন্যহাতি মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডাক্তার সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটির কানের ডান পাশে একটি পুড়া গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। এছাড়াও হাতিটির শরীরে কয়েকটি স্পট রয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে হাতির মৃত্যুর আসল রহস্য।
স্থানীয় মেম্বার ছৈয়দ হামজা বলেন, ‘পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে বন্যহাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এতে অনেক সময় বন্যহাতি লোকালয়ে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময় পাহাড়ি এলাকার আশপাশে বন্যহাতির বিচরণ বেড়ে গেছে। এতে লোকালয়ে আসা হাতির হানায় ফসলের ক্ষেত এবং বসতঘর ক্ষতি হয়।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জানান, জিআই তারে বিদ্যুতের শর্ট দিয়ে হাতি মারার জন্য ফাঁদ বসিয়েছিল। সেই বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিটির মৃত্যু হয়।দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমাদুল হক রনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে হাতির মৃতদেহ মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাতিটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে খোঁজ খবর নেওয়াও হচ্ছে।’
বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাতিটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।বন বিভাগের তথ্যমতে, বনবিভাগের তথ্যমতে, উখিয়ার দোছড়ি বনবিটের বনাঞ্চলে ১৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ মে জুমছড়িতে ১টি, দোছড়িতে ১টি এবং সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর পশ্চিম খয়রাতিতে একটি হাতি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ডিবিএন/জেইউ।