নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 8 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেআরপি বাস্তবায়ন থেকে স্থানীয় এনজিওদের বাদ দেওয়া ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’-এর অধীনে গৃহীত স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের পরিপন্থী, যার অন্যতম স্বাক্ষরকারী ইউএনএইচসিআর।
“ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”—শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় অংশীজনদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না রাখারও সমালোচনা করেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলেও স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্যের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়নি। বৈশ্বিক স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতির আলোকে জেআরপিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দাবি জানিয়ে বক্তারা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত করে “জেআরপি ২.০” প্রণয়নের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সিসিএনএফ-এর প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় এনজিও প্রতিশ্রুতির আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম ও তাহরিমা আফরোজ টুম্পা, কক্সবাজার পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কবির, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মমতাজ উদ্দিন বাহারী। এ সময় সিসিএনএফ-এর সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রেজাউল করিম চৌধুরী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
আঞ্জুমান আরা বলেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও জেআরপি-২০২৬ স্থানীয় এনজিওগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি। তিনি জেআরপি বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিও ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
মো. ইকবাল উদ্দিন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপভিত্তিক “জেআরপি ২.০” প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার ৯২ শতাংশ পেয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং ৮ শতাংশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। এটি স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ভবিষ্যতে স্থানীয় সংগঠনগুলোকে জেআরপির আবেদনকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সরাসরি তহবিল প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তাহরিমা আফরোজ টুম্পা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় অংশীজনদের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কবির বলেন, জেআরপি-২০২৬-এ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি সরকারি নির্দেশনার আলোকে এ বরাদ্দ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান।
মোজাফ্ফর আহমদ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত আগমন এবং এর ফলে স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
নুরুল ইসলাম জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নাসিমা আখতার বলেন, একটি স্থানীয় এনজিও ৩০টিরও বেশি প্রকল্প পেলেও অনেক স্থানীয় সংগঠন কোনো প্রকল্পই পায়নি। তিনি একচেটিয়া ও কেন্দ্রীভূত অর্থায়ন ব্যবস্থা বন্ধ করে সকল স্থানীয় এনজিওর জন্য ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।