নিজস্ব প্রতিনিধি | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 17 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেংডেবা গ্রামের প্রায় ১০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সংকট, বিদ্যুৎহীনতা ও নানা মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও মাত্র ২ কিলোমিটার সড়ক এবং কয়েকটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক ও সেতুর অভাবে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রোগীদের কাঁধে বহন করে কিংবা ঝুঁকি নিয়ে খাল পার করে হাসপাতালে নিতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, বেংডেবা গ্রামে ধান, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় সেসব পণ্য সময়মতো বাজারজাত করা যায় না। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
শুধু কৃষক নয়, শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে পাশের উপজেলায় স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রামটি এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসেনি। মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতাও রয়েছে। ফলে আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে পুরো এলাকা।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আল-আমিন বললেন, জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমাদের গ্রাম এখনো সরকারের মৌলিক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সড়ক, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সুবিধার অভাবে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মিয়া বলেছেন, রামু উপজেলার অন্যান্য গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের গ্রাম এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সরকারের কাছে বিনীত আবেদন, আমাদের গ্রামের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে উন্নয়নের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মিয়া বলেন, কয়েকটি সেতু ও মাত্র ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের এই অবস্থানের ফলে গ্রামটি আজও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) একরামুল হক বাবুল বলেন, এটি আমার ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তা। এখানে প্রায় একশ বছর ধরে মানুষের বসবাস হলেও চলাচলের একমাত্র রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বন বিভাগের বাধার মুখে পড়তে হয়। রোগী নিয়ে এই পথে হাসপাতালে যেতে গেলে অনেক সময় পথেই মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। নির্বাচনের সময় অনেকে রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। প্রশাসন ও সংসদ সদস্য মহোদয় উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষের চলাচলের সমস্যা দূর হবে।
এ বিষয়ে জোয়ারিয়ানালা বিট অফিসে বাদন ধর জানান, প্রস্তাবিত রাস্তা নির্মাণ করা হলে বন বিভাগের গাছ কেটে সহজেই সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ও গাছ সংরক্ষণের স্বার্থে আমরা রাস্তা নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে আসছি।
এদিকে, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহাম্মদ প্রিন্সের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গ্রামবাসীরা দ্রুত সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, একটি ছোট অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বেংডেবা গ্রামের শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।