শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মৃত্যুর মিছিলেও থেমে নেই পাহাড় কাটা

  |   বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   38 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মৃত্যুর মিছিলেও থেমে নেই পাহাড় কাটা

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত কক্সবাজার। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় যখন পুরো জেলা শোকাহত, তখনও থেমে নেই অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কার্যক্রম। বরং ঝুঁকি উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ, জমি সমতলকরণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার উপযোগী করার কাজ।

দেশবিদেশের সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মহেশখালী, উখিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, রামু, খুরুশকুল, চকরিয়া, ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী, কলাতলী, হাজীপাড়া, ঘোনারপাড়া, বৈদ্যঘোনা, মহেশখাইল্ল্যা পাড়া, ঝিলংজা ও সাহিত্যিকা পল্লীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। কোথাও বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য, কোথাও জমি সমতল করতে, আবার কোথাও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্থাপনার প্রস্তুতির নামে কেটে ফেলা হচ্ছে পাহাড়ের ঢাল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘প্রশাসনের অভিযানের খবর পেলেই পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতরা কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখলেও সুযোগ পেলেই আবারও শুরু হয় মাটি কাটা। ফলে ঝুঁকি কমার পরিবর্তে দিন দিন আরও বাড়ছে।’

এদিকে অব্যাহত বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় ধসের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়েছে। তারপরও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় ও পাদদেশে হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও জীবিকার তাগিদ, বিকল্প আশ্রয়ের সংকট ও নানা বাস্তবতায় অনেক পরিবার সেই নির্দেশনা মানছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ‘একদিকে পাহাড়ধসে মানুষ মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে অবাধে পাহাড় কাটার কারণে নতুন নতুন ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা বলছেন, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, ‘পাহাড় কাটা শুধু তাৎক্ষণিক পাহাড়ধসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি পাহাড়ের প্রাকৃতিক কাঠামো ধ্বংস করে, বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সর্বশেষ ট্র্যাজেডি চকরিয়ায়:
টানা বর্ষণের মধ্যেই গত বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে চকরিয়া উপজেলার বড়ইতলী ইউনিয়নের মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামে দুই চাচাতো ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও এক নারী আহত হন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “রাত প্রায় ২টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনজন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতেই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।”

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিহত দুইজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।”

প্রশাসনের সতর্কবার্তা:
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধস ও মাটি কাটার বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা দেশবিদেশকে বলেন, “পাহাড় কাটা বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমাদের টিম নিয়মিত কাজ করছে। যে বা যারা পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্ষা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে পাহাড়ধসের আশঙ্কা। কিন্তু মৃত্যুর মিছিলও যেন থামাতে পারছে না পাহাড়খেকোদের। প্রশ্ন উঠেছে, আর কত প্রাণ ঝরার পর বন্ধ হবে অবৈধ পাহাড় কাটা?

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com