বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন

বিদেশী পর্যটক ছাড়া পর্যটন শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ন হবে না

মাহাবুবুর রহমান   |   রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   83 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিদেশী পর্যটক ছাড়া পর্যটন শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ন হবে না

কক্সবাজারে আর্ন্তজাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী

‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’ স্লোগানকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টা শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি হোটেল-মোটেল জোন এলাকা প্রদক্ষিণ করে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ডদল, ট্যুরিস্ট পুলিশের সুসজ্জিত মোটরবাইকসহ অংশ নেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও কর্মী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্কুল শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরপর সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বলেন, কক্সবাজারের সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত। তাই সবাইকে সম্পৃক্ত করে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় কক্সবাজারের মানুষকে পর্যটন সেবী হওয়ার উপর গুরুত্বারুপ করেন জেলা প্রশাসক।

পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটন দিবস ও পূজার ছুটি ঘিরে কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে অবকাশযাপন করতে পারেন, সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন দিবসের অনুষ্টানে জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদ সহ পর্যটন সংশ্লিস্ট ব্যাক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দিবস উপলক্ষে পর্যটন মোটেলসহ তারকামানের হোটেলগুলোতে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। হোটেল-মোটেলগুলোতে দেওয়া হয়েছে ছাড়, সাজানো হয়েছে পর্যটন এলাকা।

এ সময় স্থানীয় সর্বস্থরের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তারা বলেন, সত্যিকার অর্থে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে বিদেশী পর্যটক আনার বিষয়ে দীর্ঘমিয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। বিদেশী পর্যটক এবং বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারলেই সমস্ত আয়োজন স্বার্থক হবে। তবে এর জন্য স্থানীয় মানুষজনকে পর্যটন সেবী হওয়ার বিকল্প নেই বলে জানান কক্সবাজারের সচেতন মহল।

কক্সবাজার সৈকত আবাসিক এলাকার সমাজ কমিটির সভাপতি শরাফত উল্লাহ বাবুল বলেন, আমি হলফ করে বলতে পারি সারা বছর কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের মধ্যে ৯৯% দেশীয় পর্যটক। তাহলে দেশের টাকা দেশেই থাকছে। অথচ পাশের দেশ ভারত,নেপাল,থাইলেন্ড,সিঙ্গাপুর, এমনকি শ্রীলংকাও পর্যটক নির্ভর দেশ হিসাবে দাবী করতে পারবে। তাদের জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যটন থেকে আসে। মূলত নিরাপত্তা এবং দর্শনীয় স্থান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিশ্চিত করতে পেরেছে, আমরা সেটা পারিনি।

কক্সবাজার হোটেল কর্মচারী ওনার্স সমিতির নেতা কলিম উল্লাহ বলেন,বিদেশী পর্যটক ছাড়া কোন ভাবেই একটি দেশ পর্যটন শিল্পের কথা ভাবা যায় না। কিন্তু আমরা স্থানীয় পর্যটকদের নিয়ে যে হারে গলাবাজি করি,আমাদের লজ্জা থাকা উচিত। তিনি বলেন,বিদেশী পর্যটক আনতে হলে সরকারি ভাবে বিদেশের বিভিন্ন সোর্স ধরে কক্সবাজারের সুযোগ সুবিধা এবং আকর্ষনীয় স্থানগুলো বিদেশীদের কাছে তুলে ধরতে হবে।

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ সভাপতি ও কাস্টমস কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন,আমরা যখন বিদেশে যায় তখন সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য খুব খারাপ লাগে। আমরা কেন হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক আনতে পারছি না। অথচ ভারত,থাইলেন্ড,নেপাল,শ্রীলংকায় অলিগলিতে বিদেশী পর্যটক ভ্রমন করছে। কোটি কোটি টাকা তারা সে সব দেশে খরচ করছে। সে জন্য সরকারি ভাবে উদ্দ্যেগ নিতে হবে। আবার স্থানীয় মানুষজনকেও বিদেশী পর্যটকের গুরুত্ব বুঝতে হবে।

কক্সবাজার সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন,যে কোন দেশের পর্যটন শিল্প এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আমরা যদি কারনে অকারনে হরতাল,অবরোধ,গাড়ী ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করি। কথায় কথায় রাস্তাঘাট বন্ধ করে দাবী আদায়ে নামি তাহলে কেন আমাদের এখানে বিদেশী পর্যটক আসবে ? কারন তারা নিরাপত্তার বিষয়টি আগে দেখবে।

এ ব্যপারে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, সর্বপ্রথম কক্সবাজারের স্থানীয় জনগন এর পরে কক্সবাজারের প্রশাসন কে বুঝতে হবে আমরা কি চাচ্ছি কেন চাইছি। আমরা যাচ্ছি কোথায়। শুধু চাকরীর জন্য বা মিডিয়ার আসার জন্য পর্যটনের কথা বলে লাভ হবে না। বিদেশী পর্যটক ছাড়া কোন ভাবেই আমরা পর্যটন নগরী দাবী করতে পারি না। এক কথায় আমরা আমাদেরকে চিনি, কোন আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত পর্যটন নগরীর মানুষ কক্সবাজারকে চিনে না।

এ ব্যপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহামদ বলেন, এটা চরম সত্যি বিদেশী পর্যটক ছাড়া কোন দিনও পূর্নতা আসবে না। সে জন্য রাষ্ট্রের উপর মহল থেকে আরো সঠিক এবং দীর্ঘমিয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। সবার আগে স্থানীয় জনগনকে পর্যটন সেবী হতে হবে।

 ডিবিএন/জেইউ।

 

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com