বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
দিনের বেলায় শহরে ঢুকছে মালবাহী গাড়ি

সার্বক্ষনিক বিরক্তিকর যানজটের নাকাল শহরবাসী

মাহাবুবুর রহমান   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   104 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সার্বক্ষনিক বিরক্তিকর যানজটের নাকাল শহরবাসী

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে উপ সড়ক গুলোতেও দিন রাত সার্বক্ষনিক যানজট লেগে থাকে। ফলে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা।

স্থানীয় মানুষের আন্দোলন,প্রতিবাদ সভা কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছেনা বরং কক্সবাজার শহরের যানজট দিন দিন বাড়ছেই। এতে শহরবাসীর কষ্টের শেষ নেই। সামনে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে শহরের যানজটে অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। তাই দ্রুত শহর থেকে অবৈধ অটোরিক্সা,মিশুক গাড়ী টমটম,সিএনজি আটক এবং বরিহারগত যানবাহন চলাচল বন্ধ করা সহ রাস্তার পাশে অবৈধ হকার উচ্ছেদের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন,গতকাল রাত ১০ টা দিকে আমার স্ত্রীর ডেলিভারী ব্যাথা উঠার পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রাস্তায় আসলে টেকপাড়া থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছাতে আমাদের ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। এর মধ্যে স্ত্রীর ব্যাথা আরো বেড়ে গেছে। আমরা বায়তুশ শরফ রোড় হয়ে ভেতরের গলি দিয়ে যাওয়ার চেস্টা করলেও সেখানেও পথে পথে তীব্র যানজট। আমরা শহরবাসী কোথায় যাব। এভাবেতো একটি পর্যটন এলাকা চলতে পারেনা। এর একটা সমাধান হওয়া দরকার।

পিএমখালীর ছনখোলার বাসিন্দা আলী আকবর বলেন,গত সপ্তাহে আমার নিকট আত্মীয়কে র্স্টোক জনিক কারনে সন্ধ্যার সময় হাসপাতালে নিতে নিতে রাস্তার মধ্যেই তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার সিরাজুল হক বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার শহরে অন্তত ৫ হাজার মিশুক গাড়ী চলছে সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে। কোন লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া। এছাড়া পৌরসভার অনুমোদনের বাইরে অন্তত ৪/৫ হাজার টমটম গাড়ী চলছে। যার মধ্যে শহরের বাইরে থেকে আসে হাজার হাজার টমটম,মিশুক। এছাড়া সিএনজি চলছে অন্তত ১ হাজারের বেশি। পথে পথে সিএনজি স্টেশন আর প্রধান সড়ক এবং উপসড়ক গুলোতে হকারের দৌরাত্ম সাধারণ মানুষকে নাকাল করে ফেলছে। তাছাড়া আগে দিনের বেলায় শহরে মালবাহী গাড়ী ঢুকার নিয়ম ছিলনা। এখন দেখছি কোন আইনকানুন মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন,বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে যেন সব অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ হওয়ার কথা ছিল ভিন্ন। যা মানুষ প্রত্যাশা করেছে তার উল্টো হচ্ছে এখন।

অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম জাবের বলেন, ৩ দিন যদি পুলিশ শহরের বাসটার্মিনাল,হলিডে মোড়,খুরুশকুল ব্রীজ অর্থাৎ শহরের প্রবেশ মুখে দাড়িয়ে থেকে বহিরাগত কোন সিএনজি, টমটম,মিশুক,অটোরিক্সা, লাইসেন্স বিহীন মটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় আমি মনে করে এক সপ্তাহর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতী হবে। এভাবেতো ছাড় দেওয়া যাবে না। একটি শহরকে এভাবে কিছু পরিবহণ ব্যবসায়িদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

সাবেক ফুটবলার ওমর ফারুক বলেন, শহরের হকার মার্কেট হতে চাউল বাজার এবং হাসপাতাল সড়ক,বাটা রোড়,এন্ডারশন রোড়.বড় বাজার এলাকা সহ বিভিন্ন সড়কে কয়েক শত হকার ভ্যানগাড়ী নিয়ে রাস্তার মধ্যে দাড়িয়ে ফল, তরিতরকারী,নাস্তা,কাপড় বিক্রি করে। আমরা জেনেছি এসব ভ্যানগাড়ী থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা নেয় একটি সিন্ডিকেট। ফলে শহর জুড়ে যানজট আরো তীব্র হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের যানজটের কারনে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়ে কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন,এটা কোন সভ্যদেশে নাই। কারো কোন অনুমতি ছাড়া,লাইসেন্স ছাড়া,নির্দিস্ট পোষাক ছাড়া যত্রতত্র গাড়ী চলবে। একটি স্বাধীন হয়েছে ৫৬ বছর তার পরও কেন আমরা এখনো সভ্য হতে পারছিনা। আইন মানতে বা মানাতে পারছি না। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের হাই স্কুল মোড়,হাসপাতাল সড়ক,প্রধান সড়ক,ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকা,বাজার ঘাটা,ঘুমগাছ তলায় দিন রাত যানজট লেগে থাকে। এর ফলে পুরু শহর জুড়ে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজিম উদ্দিন আহমদ বলেন,বিষয়টি নিয়ে ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। গতকাল একটি সুধী সমাবেশেও শহরের যানজট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আশা করি দ্রুত একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 ডিবিএন/জেইউ।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com