শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কক্সবাজারে সৈকত রক্ষায় ৬২৪ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

  |   সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   106 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কক্সবাজারে সৈকত রক্ষায় ৬২৪ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

 

বহুদিন ধরে সাগরের তীব্র ঢেউয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতের বুক চিরে ঢুকে পড়ছে উত্তাল সাগরের পানি। ভাঙনের কবলে পড়ছে ঝাউবন, দোকানপাট, ওয়াচ টাওয়ার, এমনকি পুলিশের নিরাপত্তা বক্স পর্যন্ত। একসময়ের বিশাল বালিয়াড়ি এখন সাগরের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে লাভনী থেকে নাজীরারটেক পর্যন্ত এই দৃশ্য দেখা গেছে। অবশেষে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

কক্সবাজার শহর ও সৈকত রক্ষায় ‘কক্সবাজার শহর রক্ষা প্রকল্প’ নামে একটি বিশাল প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

কক্সবাজার পাউবো সুত্রে জানা গেছে, নাজিরারটেক থেকে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত ছয়  (৬) কিলোমিটার উপকূলজুড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সৈকত ও শহরকে ভাঙন থেকে রক্ষা করাই হবে প্রকল্পটির কাজ । প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বর্তমানে এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে রাখা আছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈকতের আশপাশে থাকা বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, সরকারি মোটেল, ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়, ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয় থেকে রক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ।

দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি ধসে পড়েছে। লাবণি পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক,এই অংশে ভাঙন এখন সবচেয়ে ভয়াবহ। উপড়ে গেছে লক্ষাধিক ঝাউগাছ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ বক্স, ওয়াচ টাওয়ার, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ এবং সরকারি স্থাপনাগুলো ভাঙনের মুখে পড়েছে। এমনকি সৈকতের পাশের ভবনগুলোতেও দেখা দিয়েছে ঝুঁকি।

এ অবস্থায় সৈকতের আয়তনও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। সৈকতের বুকে তৈরি হচ্ছে গুপ্তখাল ও গভীর গর্ত, যা পর্যটকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে এসব গর্তে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে অনেক পর্যটকসহ স্থানীয়দের।

পাউবোর কক্সবাজারের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় (০৬) কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কক্সবাজার শহর রক্ষা প্রকল্প’টি ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি গৃহীত হবে কি না, তা কর্তৃপক্ষ জানাবেন। এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

পাউবোর কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে সৈকত এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা পাবেন।

পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাঙনের ঢেউয়ের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প কেবল সৈকত নয়, পুরো কক্সবাজার শহরকে বাঁচানোর এক উদ্যোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যদি টেকসই সমাধান পাওয়া যায়, তবে তা বাংলাদেশের উপকূল ব্যবস্থাপনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com